সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের মঞ্জুরখালি এলাকায় মিনু আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার পঞ্চম স্বামীর বিরুদ্ধে।
হত্যার ১৭ দিন পর ওই নারীর মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১।
হত্যাকারী ও ধর্ষক জুনায়েদ আহমেদকে (৪৫) আটকের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরে বাড়ীর পাশের মোস্তফার বালুর মাঠ থেকে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়।
জুনায়েদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছির নগর থানার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে কাঁচপুর মঞ্জুরখালি এলাকায় জিহাদ খানের বাড়িতে ভাড়া বাসায় বাস করে।
র্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসপি আলেপ উদ্দিন জানান, ২১ মে ভোর ৩টায় মিনু আক্তারকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিজ বাসায় নিয়ে যায় তার প্রাক্তন স্বামী জুনায়েদ আহমেদ। এরপর থেকেই মিনু নিখোঁজ হন। তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে মিনুর কোনো হদিস না পেয়ে তার মা ও তিন বোন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।
তিনি বলেন, তারা জুনায়েদের বাড়ি গিয়ে মিনুর খবর জানতে চাইলে জুনায়েদ কৌশলে সরে যায়।
র্যাব জানায়, ২৩ মে মিনুর মা মনোয়ারা বেগম মদিনা সোনারগাঁ থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ জুনায়েদের বাসা থেকে রক্তমাখা লুঙ্গি ও নারীর মাথার লম্বা চুল জব্দ করে।
মিনুর পরিবার বিষয়টি র্যাবকে জানালে র্যাব জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেন।
র্যাব আরো জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব-১১ সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকা থেকে অভিযুক্ত জুনায়েদকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে মিনুকে ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের কথা স্বীকার করে।
জুনায়েদের স্বীকারোক্তি মতে শুক্রবার দুপুরে তার বাড়ির পাশের বাবুল মাঠ থেকে র্যাব মাটি খুঁড়ে মিনুর লাশ উদ্ধার করে।
জুনায়েদ মিনুর পঞ্চম স্বামী। অন্যদিকে জুনায়েদ তার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে মিনুর বাড়ির পাশেই জিহাদ খানের বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল।
র্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, গত চার বছর আগে মিনু ও জুনায়েদের মধ্যে গোপনে বিয়ে হয় এবং এক বছর আগে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদও ঘটে। তবে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো প্রমাণ র্যাব খুঁজে পায়নি।
তিনি বলেন, জুনায়েদ ও মিনুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল এবং টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে জুনায়েদ মিনুকে হত্যা করেছে বলে ধারণা।
র্যাব-১১ এর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (সিও) কাজী শামসের উদ্দিন জানায়, এ হত্যাকাণ্ডে জুনায়েদের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থার প্রক্রিয়া আছে।