দাঁতের যত্নে চাই দক্ষ দন্ত চিকিৎসক

রোগীর হার্ট, কিডনি, লিভার, বাতজ্বর, শ্বাসকষ্ট, রক্তের কোনো রোগ, এসিডিটি, চর্মরোগ, অ্যালার্জি, ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার, ক্যানসার ইত্যাদি  সমস্যায় যারা আক্রান্ত আছেন তাদের দাঁতের চিকিৎসা থেকে ভয়াবহ জটিলতা হতে পারে। জটিলতা এড়াতে কোন রোগের জন্য কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে  সে সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। একজন বিডিএস (ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি) ডিগ্রিধারী চিকিৎসক এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন। এ ছাড়া দাঁত তুলতে গিয়ে অন্য দাঁত ভাঙা, চোয়ালের হাড় ভাঙা, সাইনাস উন্মুক্ত হওয়া, নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ নানা জটিলতা চোখে পড়ে। ফিলিংয়ের ক্ষেত্রে মজ্জা রক্ষা বিষয়ে ধারণা না থাকলে মজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, রুট ক্যানেল চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোন দাঁতের কটা রুট বা স্বাভাবিক অবস্থার বাইরে ক্যানেলের সংখ্যা বা অবস্থান, ইনস্ট্রুমেন্ট ভেঙে গেলে ব্যবস্থা, কৃত্রিম দাঁত সংযোজনে কামড় না মেলা বা অমসৃণ অংশ থেকে ক্যানসার ও নানা বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে চিকিৎসা কখনোই সফল হবে না। সঠিক জ্ঞানের অভাবে আরও ইমার্জেন্সি অবস্থার তৈরি হতে পারে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে না জানলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যেমনÑ

১. অতিরিক্ত রক্তপাত : ডেন্টালের অধিকাংশ চিকিৎসায় কমবেশি রক্তপাত হতে পারে। রোগীর যদি রক্তের রোগ থাকে, যেমনÑ হিমোফ্লিয়া, প্লেটলেট কম বা ক্যানসার এবং অন্যদিকে রক্ত তরলকরণ ওষুধ সেবনকালে বা লিভারের রোগ থেকে ছোট কোনো সার্জারিতেও মাত্রাতিরিক্ত রক্তপাত হয়ে বিপদ হতে পারে।

২. সিনকোপ : ডেন্টাল চিকিৎসায় এনেস্থেসিয়ার পর রোগীর মস্তিষ্কে হঠাৎ রক্ত সরবরাহ কমে গিয়ে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ না করলে অল্প সময়ে রোগীর অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

৩. হাইপোগ্লাইসেমিয়া : ডায়াবেটিস রোগীরা অনেক সময় রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে চিকিৎসা নিতে আসার আগে ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা বেশি দিয়ে আসে অথবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে চিকিৎসা নিতে এলে এমন বিপদ ঘটতেই পারে।

৪. অবস্থানগত লো-ব্লাড প্রেশার: অনেকক্ষণ ডেন্টাল চেয়ারে চিকিৎসা নিয়ে হঠাৎ উঠলে ব্লাড প্রেশার কমতে পারে, মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে ব্যাঘাত হতে পারে।

৫. অ্যালার্জি : এনেস্থেসিয়া বা যেকোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে শরীরে নানা উপসর্গের পাশাপাশি দ্রুত রক্তচাপ কমে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

৬. এনজাইনা ও মাইওকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন : ডেন্টাল চিকিৎসা পরিবেশে অহেতুক ভয়, উদ্বেগ বা অস্থিরতার কারণে অনেক সময় হার্টের রক্ত সরবরাহে তারতম্য ঘটাকে কেন্দ্র করে বিপদ ঘটতে পারে।

৭. শ্বাস-প্রশ্বাসে অস্বাভাবিকতা : অনেক কারণেই চিকিৎসা চেয়ারে রোগীর শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে, বিশেষ করে যাদের এজমা আছে।

৮. এপিলেপসি : যাদের এপিলেপসি আছে, চিকিৎসা চলাকালে রক্ত দেখে বা অন্য কারণে হঠাৎ খিঁচুনি উঠতে পারে।

৯. সংক্রমিত রোগ ছড়ানো : হেপাটাইটিস, যক্ষ্মা এমনকি এইডসসহ নানা রক্তবাহী রোগের আশঙ্কা বাড়ছে। পর্যাপ্ত জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতির অভাবে সংক্রমিত রোগ সহজেই এক রোগীর থেকে অন্য রোগীতে ছড়াতে পারে।

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ

রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান

রাজ ডেন্টাল ওয়ার্ল্ড, ধানমণ্ডি ১৩

ফোন : ০১৯১১ ৩৮৭২৯১