নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নিখোঁজ হওয়ার ১৭ দিন পর মাটি খুঁড়ে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কাঁচপুর ইউনিয়নের মঞ্জুরখালী এলাকা থেকে মিনু আক্তার (৩৫) নামে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে র্যাব। তিনি কাঁচপুরের কুতুবপুর এলাকার আবদুল হাসেমের মেয়ে। গত ২১ মে রাত থেকে পরিবারের সদস্যরা মিনুর কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। তাকে হত্যার অভিযোগে তার সাবেক স্বামী জুনায়েদ আহমেদকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জুনায়েদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাছিরনগর থানার হরিপুর গ্রামের সৈয়দ রফিক উদ্দিনের ছেলে।
র্যাব-১১-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ২১ মে ভোরে মিনু আক্তারকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিজের বাসায় নিয়ে যান তার সাবেক স্বামী জুনায়েদ। এরপর থেকেই মিনুর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সকালে মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা জুনায়েদের বাসায় গিয়ে মিনুর খবর জানতে চাইলে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় মিনুর মা মনোয়ারা বেগম সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ জুনায়েদের বাসা থেকে রক্তমাখা লুঙ্গি ও নারীর মাথার একগুচ্ছ লম্বা চুল জব্দ করে। মিনুর পরিবার বিষয়টি জানালে র্যাব জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব-১১-এর একটি দল সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকা থেকে জুনায়েদকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে মিনুকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং লাশ গুমের কথা স্বীকার করেন জুনায়েদ। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে মিনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। র্যাব কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিন আরও জানান, জুনায়েদ মিনুর পঞ্চম স্বামী। অন্যদিকে জুনায়েদ তার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে মিনুর বাড়ির পাশে জিহাদ খানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। চার বছর আগে মিনু ও জুনায়েদ গোপনে বিয়ে করেন। পরে এক বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। র্যাব-১১-এর অধিনায়ক কাজী শামসের উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জুনায়েদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।