২ বছরে ৫ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে পাঁচ লাখকে দুই বছরের মধ্যে দেশটি ফিরিয়ে নেবে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মিয়ানমার মনে করছে, তাদের দেশ থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গাই বাংলাদেশে গিয়েছে, যা মূল হিসাবের অর্ধেকেরও কম। রোহিঙ্গাদের নিয়ে সাউথ এশিয়ান ব্লকের ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিমের (আসিয়ান-ইরাত) ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, আসিয়ানের প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগেই ফাঁস হয়।

আসিয়ান-ইরাতের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে বলে এএফপি জানিয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের যে সংখ্যার কথা জানিয়েছে, তা বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের হিসাবের চেয়ে অনেক কম। ‘প্রিলিমিনারি নিডস অ্যাসেসমেন্ট ফর রিপেট্রিয়েশন ইন রাখাইন স্টেট, মিয়ানমার’ শিরোনামে প্রণীত প্রতিবেদনে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করার কথা উঠে এসেছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে

হামলার পর রাখাইনে পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাড়ে সাত লাখ মানুষ। এদের সঙ্গে রয়েছেন ১৯৮২ সাল থেকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া আরও প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

আসিয়ানের প্রতিবেদনে মিয়ানমার কর্র্তৃপক্ষের মতো করে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। তাদের পরিচয় হিসেবে সেখানে ‘মুসলমান’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। আসিয়ানের প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানিয়েছে, ম্যানুয়াল কাজ করার পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ করা হলে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করতে ‘দুই বছরের মতো’ সময় লাগবে। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের  নেওয়া পদক্ষেপকে ‘সহজ ও সুশৃঙ্খল’ আখ্যা দিয়ে এর প্রশংসা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের পেপারওয়ার্ক দুর্বলতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। গত বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার।