আসিয়ানের ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর দ্বারা সংঘটিত রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়টিকে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। আসিয়ানের ওই প্রতিবেদনে দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে ৫ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্যতা হাজির করা হয়েছে। তবে একে হাস্যকর বলেছেন
সংস্থাটির মিয়ানমারবিষয়ক গবেষক লরা হাই।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট কয়েকটি নিরাপত্তাচৌকিতে হামলার পর রাখাইনে সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এদের সঙ্গে রয়েছে ১৯৮২ সাল থেকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া আরও প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। এএফপি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা ৫ লাখ, যা বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের হিসাবের চেয়ে অনেক কম।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসিয়ানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম’-এর তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ৫ লাখ মানুষকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার। প্রতিবেদনটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়।
সংস্থাটির মিয়ানমারবিষয়ক গবেষক লাওরা হাই ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আসিয়ানের প্রতিবেদন সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়া, এখনো রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ দুরবস্থা এবং সেখানকার জাতিগত সশস্ত্র সংঘাতের ব্যাপকতাকে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। গত ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। আসিয়ানের প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ যথাযথভাবে তুলে ধরার বদলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের চলমান পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসা করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানিয়েছে, ম্যানুয়ালি কাজ করার পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ করা হলে ৫ কোটি রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করতে ‘দুই বছরের মতো’ সময় লাগবে।