শাহজাদপুরে স্কুলছাত্র ইউনুস হত্যা মামলার আসামি

ছুটিতে এসে পলাশ শুধু পেটাতেন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবর্ণিয়া গ্রামের স্কুলছাত্র ইউনুস আলী হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৈনিক পলাশ উদ্দিন মোল্লা (২৯) ওরফে তারাব আলী ছুটিতে গ্রামে এসে হামলা, মারপিট ও চাঁদাবাজি করে বেড়াতেন। তার অত্যাচার, নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি গ্রামের নিরীহ নারী-পুরুষ, মুদিদোকানদার, কৃষক, জেলে ও পল্লীচিকিৎসক কেউ-ই।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি করে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় এখন তিনি জেলে আছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মারধর করে আঙুল কেটে নেওয়াসহ বেশ কিছু ঘটনায় অনেকগুলো মামলা রয়েছে বলে থানা সূত্র জানিয়েছে। পলাশ শাহজাদপুরের গালা ইউনিয়নের চরবর্ণিয়া গ্রামের হেলাল মোল্লার ছেলে। স্কুলছাত্র হত্যার পর পলাশের পরিবারের সবাই এখন পলাতক।

গালা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ছাত্রাবস্থায় পলাশ উদ্দিন মোল্লা ওরফে তারাব আলী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই সময় যে বেপরোয়া চলাফেরা করতেন, সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়ে তা আরও বেড়ে যায়। ছুটিতে এসে তিনি কোনো ঘটনা না ঘটিয়ে যাননি কখনোই।

সোহান বলেন, ২০১৭ সালের দিকে চরবর্ণিয়া গ্রামের মৃত শাহাদৎ হোসেন মাস্টারের ছেলে বাবু প্রামাণিক ও তার মা খাদিজা বেগমকে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করেন পলাশ। শুধু তা-ই নয়, চরবর্ণিয়া খেয়াঘাট এলাকার তাদের একটি জমি জোর করে দখল করে নেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়। হামলায় আহত খাদিজা বেগমকে চিকিৎসা দেওয়ার কারণে পলাশ ওই গ্রামের বাসিন্দা পল্লীচিকিৎসক আব্দুর রহিম মোল্লাকেও পেটান।

এ ছাড়া চরবর্ণিয়া খেয়াঘাটের মুদিদোকানি নূর মোহাম্মদ বুদুর কাছে চলতি বছরের মার্চ মাসে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন পলাশ। দোকানি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে পলাশ তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। এ ছাড়া তুচ্ছ ঘটনায় আসাদুল প্রামাণিক নামের এক দিনমজুরকে মারপিট করে তার হাতের একটি আঙুল কেটে নেন পলাশ। এ ঘটনায়ও পলাশের নামে থানায় মামলা হয়। এভাবে পলাশের হামলায় আহত হয়েছেন এই গ্রামের অন্তত অর্ধশত নারী-পুরুষ এমনকি শিশুও।

সর্বশেষ ঈদের আগের দিন গত মঙ্গলবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখের শেখের একটি আঙুল কেটে নেন পলাশ। এ ঘটনায় সংঘর্ষের পর পুলিশ এলে পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি করে পলাশ সপ্তম শ্রেণিতে পড়–য়া ইউনুস আলী নামের এক স্কুলছাত্রকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ দুই কনস্টেবল আহত হন।

এ ঘটনায় ইউনুসের বাবা জয়নাল শেখ ও পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন পলাশের বিচার দাবি করে। শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।