পাসপোর্ট ছাড়াই পাইলট ফজল মাহমুদ চৌধুরীর কাতার যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিটি বরখাস্ত হওয়া ইমিগ্রেশন পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামানসহ ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শনকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গেও বৈঠক করেছে তদন্ত কমিটি।
গতকাল বেলা দুইটার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি বিমানবন্দর পরিদর্শন করার সময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক-৪) মো. হেলাল মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুস্তকীম বিল্লাহ ফারুকী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম। তারা বরখাস্ত হওয়া সাব ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামানসহ ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কামরুজ্জামান তদন্ত কমিটিকে জানান, ৫ জুন বিকেলে পাইলট ফজল মাহমুদ ইমিগ্রেশনে এলে তিনি তার কাছে পাসপোর্ট চেয়েছিলেন। জবাবে পাইলট বলেছিলেন, পাসপোর্ট তার ব্যাগে আছে। যেহেতু পাইলট সব সময় যাওয়া-আসা করেন, তিনি সিনিয়র পাইলট, তাই ব্যাগ চেক করা হয়নি। তিনি জানান, মূলত পাইলট ও ক্রুদের বিমানের জেনারেল ডিক্লারেশন (জিডি) দেখেই ইমিগ্রেশন করা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিমানের ভারপ্রাপ্ত এমডিসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, আজ সোমবার ভোরে পাইলট ফজল মাহমুদ দেশে আসবেন। তাকেও তদন্ত কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করবে। দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেওয়ায় ফজল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। এ ব্যাপারে একটি মৌখিক সিদ্ধান্তও হয়েছে। ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের সঙ্গে যাওয়া ওই ফ্লাইটের দুই পাইলট ও ১২ কেবিন ক্রুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক পাইলট দেশ রূপান্তরকে জানান, পাইলটরা বিমান নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে গেলেও অনেক সময় ওই সব দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হয় না। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) নিয়ম অনুযায়ী পাইলটরা জেনারেল ডিক্লারেশন কপি নিয়ে ভ্রমণ করেন। ওই কপি ছাড়া পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হয়। ফজল মাহমুদ একজন সিনিয়র অভিজ্ঞ পাইলট। তিনি প্রায়ই ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনা করেন। পাসপোর্ট না নিয়ে কীভাবে গেলেন তা বুঝতে পারছি না। তিনি দেশে এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।