কারাগারে অমিত মুহুরী হত্যা

রিপনের দাবি বিতণ্ডায় খুন অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই

চট্টগ্রাম কারাগারে ডজনের অধিক মামলার আসামি অমিত মুহুরী হত্যা মামলায় অনেক প্রশ্নের জবাব পাচ্ছে না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। মামলার আসামি রিপন নাথ রিমান্ডে চারদিনের জিজ্ঞাসাবাদে ঘুমানোর জায়গা নিয়ে বাগ্বিত-ার জেরে একাই খুন করার দাবি করলেও অন্যান্য প্রশ্নের বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। গত বৃহস্পতিবার থেকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। আজ সোমবার তার রিমান্ড শেষ হবে। এর আগে গত ৩ জুন তার রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা            

গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আজিজ আহমেদ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদকালে ধীরস্থিরভাবে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন রিপন। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শুধু একটি কথাই বলে যাচ্ছেন। সেলে ঘুমানোর জায়গা নিয়ে বাগ্বিতন্ডা ও অপমানের ক্ষোভ থেকে তিনি একাই অমিতকে খুন করেছেন। এর পেছনে আরও কোনো কারণ নেই। তার এ বক্তব্যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না ডিবির তদন্ত টিম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আজিজ আহমেদ গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত রিপনের বক্তব্য হলো : কারাগারের ছয় নম্বর সেলে বদলির রাতে শোবার স্থান নিয়ে অমিতের সঙ্গে তার বাগ্বিত-া হয় এবং অমিত তাকে অপমান করে। এ সময় অমিত তার সঙ্গে জিন আছে বলেও রিপনকে ভয় দেখায়। এ অপমানের ক্ষোভ থেকেই সেলে থাকা ইটের টুকরো দিয়ে তিনি অমিত মুহুরির মাথায় আঘাত করেন।’

গত ২৯ মে রাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ছয় নম্বর সেলের বন্দি ৫টি হত্যাসহ ১৭ মামলার আসামি অমিত মুহুরীকে ঘুমন্ত অবস্থায় ইট দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে একই সেলের বন্দি রিপন নাথ। মুমূর্ষু অবস্থায় অমিতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় রিপন নাথকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার রাতে ওই সেলের বন্দি ছিলেন অমিত, রিপন ও বেলাল। বাগ্বিত-ার পর বেলাল মাঝে এবং তার দুই পাশে অমিত ও রিপন শুয়ে পড়ে। অমিত ও বেলাল ঘুমিয়ে পড়ার পর রিপন বিছানা থেকে উঠে সেলের ভেতরে থাকা ইটের টুকরো নিয়ে অমিতের কাছে যায়। এরপর ঘুমন্ত অমিতের মাথায় উপর্যুপরি ইটের আঘাত করে। এ সময় বেলাল জেগে উঠে রিপনকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, কারাগারে যাওয়ার পর থেকে রিপন ছয়টি সেলে ছিলেন। অন্য কোথাও তিনি এমন কিছু ঘটাননি। আর বাগ্বিত-া হলে মারামারি হতে পারে। কিন্তু অমিতের প্রতি রিপন এতটা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠার কারণ জানতে পারছেন না তারা। এছাড়া প্রশ্ন জাগছে, অমিতের ওপর আক্রমনের সময় বেলাল নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলেও রিপনকে কোনো আঘাত করেননি কেন? আজিজ আহমেদ বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর আমি এখনো পাইনি। তাই চার্জশিটের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এসব প্রশ্নের উত্তর বের করার চেষ্টা করা হবে।’ তিনি জানান, ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আজ বা আগামীকাল রিপনকে আদালতে হাজির করা হবে। আবারও তার রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে কি না এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।