নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে উপজেলার চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গত শনিবারের এ ঘটনায় পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ রাজনসহ সংগঠনটির ছয় নেতাকর্মীকে গতকাল রবিবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই দিন সন্ধ্যায় তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পলাশ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ রাজন (৩২), তার সহযোগী সুমন মিয়া (২৫), শফিকুল ভূঁইয়া (২৪), জাহির (১৯), শুভ মিয়া (২০) ও রাজন (২৭)। তারা সবাই উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মারধরের শিকার পুলিশ সদস্যরা হলেন চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার দাশ, কনস্টেবল জাহিদ, নাদিম, গাইয়ুম ও নায়েক আলামিন।
পলাশ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর নতুন ব্রিজে ঘুরতে আসেন। পরে তারা ব্রিজের এক পাশে বসে তাস খেলছিলেন। সে সময় হৃদয় নামে স্থানীয় এক যুবক তাদের তাস খেলতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে কালীগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা ছাত্রলীগ সদস্যরা বিষয়টি পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজনকে জানান। এরই জেরে রাজনের লোকজন হৃদয়কে মারপিট করতে থাকেন।
খবর পেয়ে চরসিন্দুর ক্যাম্পের ইনচার্জসহ পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। তারা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। কিন্তু তারা পুলিশের কথা অমান্য করে দুই পক্ষে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ সময় রাজনের ওপর লাঠির আঘাত লাগে। এতে ছাত্রলীগ নেতার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ছাত্রলীগ নেতা ও তার সমর্থকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তাদের মারধরে পুলিশের পোশাক ছিঁড়ে যায়।
খবর পেয়ে অন্য পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে পলাশ মডেল থানায় মামলা করেন। সে মামলায় গতকাল দুপুরে পুলিশ পলাশ থানা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি জানতে পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদকে কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি। পলাশ থানার ওসি মকবুল হোসেন মোল্লা বলেন, পুলিশকে মারপিট ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পলাশ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।