স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২

রাজবাড়ীতে স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি শিল্পী বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার সকালে সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় তার ভাগ্নে সেতুকে (১৬)। পরে গতকাল দুপুরে রাজবাড়ী সদর থানায় সংবাদ সম্মেলন করে অভিযানের বিস্তারিত জানান জেলার পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি।

গ্রেপ্তার শিল্পী বেগম রাজবাড়ীর সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী। সেতু

           

একই গ্রামের বাবলুর ছেলে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে পাশের পাটক্ষেতে নিয়ে মুখ ও হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে বোরকা পরা কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এ সময় ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন টের পেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত শনিবার সকালে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে প্রতিবেশী শিল্পী বেগমসহ অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, ‘শনিবার মামলা হওয়ার পর থেকেই পুলিশের দুটি বিশেষ দল আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযানে নামে। অব্যাহত পুলিশি অভিযানের কারণেই ঘটনার মূল হোতা ও তার বোনের ছেলেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা সম্পর্কে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।’

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্বপন কুমার বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে জানান, মামলা হওয়ার পরপরই শিল্পী বেগমসহ এ ঘটনায় জড়িত অন্যরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। মামলার পর আসামিদের ধরতে ওইদিন রাতেই পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়।

ঘটনা ঘটার পর মামলা দায়েরে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি স্বপন কুমার বলেন, ‘দগ্ধ মেয়েটির পরিবার প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টা কিছুটা চেপে গেলেও থানা পুলিশ জানার পর দ্রুত মামলা দায়েরের ব্যবস্থা করা হয়।’

মামলার তদন্তে জড়িত এক পুলিশ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে অন্যতম ভা-ারিয়া গ্রামের মেহেরুল্লার ছেলে রাজু। সে প্রায়ই ঘটনার শিকার স্কুলছাত্রীকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত। শিল্পী বেগমের সহায়তায় ওই স্কুলছাত্রীর কিছু আপত্তিকর ছবি তোলে রাজু ও তার সহযোগীরা। আর এই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তারা ওই স্কুলছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে।