উড়ছে গুজব ধাওয়ানের চোট নিয়ে ধোঁয়াশা

রোদ ঝলমলে ওভাল থেকে নটিংহ্যামের ভারী আবহাওয়া। ভারতের ভাগ্যাকাশও একই রকম কালো, হঠাৎ! বিরাট কোহলিরা চলে এসেছেন নটিংহ্যামে, বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনে তিন করার লক্ষ্যে। কিন্তু লিডসে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়েছে শিখর ধাওয়ানকে।

চোট পেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ব্যাট করার সময়। প্যাট কামিন্সের বল তার আঙুলে লেগেছিল। বার দুই মাঠেই

শুশ্রষা হয়। প্রাথমিকভাবে এতটাই কষ্ট হচ্ছিল, স্ট্রোক নেওয়ার সময় হাত সরিয়েও নিচ্ছিলেন। ক্রমেই সয়ে যায় ব্যথা। আর সেই অবস্থাতেই ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের সম্মান নিয়ে ফেরেন, ১১৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে। কিন্তু ব্যথার স্বরূপ প্রকাশিত হতে শুরু করে তারপর, সাজঘরে ফিরেই। ফিল্ডিং করতে নামেননি আর।

আশঙ্কা ছিল। গতকাল সকালে জানা যায়, হয়তো হেয়ারলাইন ফ্র্যাকচার। খবর সত্যি হলে, অন্তত দুটি ম্যাচ, মানে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা তো নেই-ই, আরও বেশিদিনও বাইরে থাকতে হতে পারে। ভারতীয় বোর্ড অবশ্য এমন ইস্যুগুলো যেভাবে সামলে এসেছে, সেভাবেই চলছে এখনো। সরকারিভাবে কোনো খবর আসেনি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের তরফে। এমনকি, ঠিক কী হয়েছে, আঙুল ভেঙেছে কি না, ভারতীয় প্রচারমাধ্যমকে জানানোর সময়ও করে উঠতে পারেনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া বিভাগ।

এই অসহযোগিতা অবশ্য এবার ইংল্যান্ডে চলছে শুরু থেকেই। প্রথম ম্যাচ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তার দুদিন আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বয়কট করেছিল ভারতীয় দলের সরকারি সংবাদ সম্মেলন। কারণ দুই নেট বোলারকে সেই সংবাদ সম্মেলনে আনতে চেয়েছিলেন ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে সফররত মিডিয়া ম্যানেজার। সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। বক্তব্য ছিল সহজ এমন কাউকে পাঠান, যিনি দলের সদস্য। কর্ণপাত করা হয়নি সেই প্রস্তাবেও। পরের দিন বিমান ধরে বাড়ি ফিরে আসবেন এমন দুজনের সঙ্গে কথা বলার প্রস্তাবও তাই ভারতীয় মিডিয়া বয়কট করেছিল, সহর্ষ!

শিখর ‘গব্বর’ ধাওয়ানের চোট নিয়েও সেই একই গল্প চলছে। আর সময়ের ফায়দা নিতে, চারদিকে উড়ছে গুজব। শোনা গেল, ব্রেকিং নিউজের ভঙ্গিতেই, ঋষভ পান্ত নাকি বসেই পড়ছেন লন্ডনের বিমানে! অন্যরাই বা পিছিয়ে থাকেন কেন! তাদের ব্রেকিং, যখন অজিঙ্কা রাহানে আছেন ইংল্যান্ডেই, তাকেই নিয়ে নেওয়া হচ্ছে দলে। প্রশ্নটা উঠেই এলো, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচকদের কমিটি পাঁচজনের নাম জানিয়েছিলেন, স্ট্যান্ডবাই হিসেবে। সেই পাঁচজনÑ আম্বাতি রায়ডু, ঋষভ পান্ত, অক্ষর প্যাটেল, ইশান্ত শর্মা ও নভদীপ সাইনি। সেই পাঁচজনে তো রাহানে নেই। তা হলে কী করে রাহানে? একই কথা প্রযোজ্য আরেক উঠে আসা নামÑ শ্রেয়াস আইয়ার সম্পর্কেও। কিন্তু গুজব তো আর যুক্তি মেনে ওড়ে না হাওয়ায়!

যা হলো, সত্যি সমস্যায় ভারত এখন। সব আইসিসি প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ধাওয়ানের ২০ ম্যাচে রান ১২৩৮, ছয়টি সেঞ্চুরি পকেটে, গড় ৬৫.১৫। দুটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে ১০ ম্যাচ খেলেছেন। রান ৫৩৭, গড় ৫৩.৭০, তিনটি শতরান। স্ট্রাইক রেট ৯৪.২১। ইনিংসের শুরুতে রোহিত শর্মার সঙ্গে তার জুটিতে ভারত পেয়েছে ৪৬৮১ রান, একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে যা চতুর্থ সর্বোচ্চ। সঙ্গে যোগ করুন ডান-বাঁহাতি কম্বিনেশন, ইনিংসের শুরুতে বিপক্ষ বোলারদের খানিকটা হলেও অসুবিধায় ফেলে। বলা হচ্ছে বটে, ছন্দে থাকা লোকেশ রাহুলই আসবেন রোহিতের সঙ্গে ইনিংসের শুরুতে, কিন্তু তখন ভেঙে যাবে ডান-বাঁহাতি জুটি, বিশ্বকাপের মাঝেই।

নির্বাচকদের চেয়ারম্যান দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পর কোনোরকমে, বেসরকারিভাবে জানিয়েছেন যে, সরকারি কোনো বক্তব্য জানানোর সময় এখনো আসেনি। কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে চিকিৎসাশাস্ত্রকে। বেশ কিছু পরীক্ষা চলছে, বা আরও কিছু নতুন পরীক্ষা হবে। সব পরীক্ষার ফল না জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্ভব নয়।

অর্থাৎ, গভীর রাতে যদি জানা যায়, ঠিক কী হলো ধাওয়ানের! আরও সমস্যা, স্ট্যান্ডবাই তালিকায় কোনো ওপেনার নেই ভারতের। লোকেশ রাহুলই তাই একমাত্র বাজি। তবে মিডল অর্ডারে দিনেশ কার্তিক, বিজয় শঙ্কররা আছেন দলের সঙ্গেই। যদি বোঝা যায়, সপ্তাহ দুইয়ের মধ্যে আবার খেলার অবস্থায় চলে আসবেন ধাওয়ান, ভারত কি পরিবর্ত পাঠানোর ঝুঁকি নেবে?

সমস্যা তো সেখানেও। যদি পরিবর্ত হিসেবে কাউকে নিয়ে নেওয়া হয় এবং ধাওয়ান নকআউট পর্যায়ের আগে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাকে দলে ফেরাতে আবার তাকিয়ে থাকতে হবে, অন্য কারও চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার দিকে। স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় বোর্ড এবং নির্বাচকরা তাই নীতি নিয়েছেন, ‘ধীরে চলো’। সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। ভুল নেই তাতে।

শুধু, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এগুলোই সরাসরি জানিয়ে দিলে কী এমন ক্ষতি হতো? অন্তত গুজবের হাত থেকে বাঁচা যেত তো!