ঝালকাঠির নলছিটিতে ‘কবুতর চুরি’র অভিযোগে দুই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। গত রবিবার বিকেলে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নির্যাতনের স্থিরচিত্র ও ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত এক কিশোরের বাবা মামলা করার পর অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার আসামি এক পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্যরা পলাতক আছেন।
নির্যাতনের শিকার সজিব হোসেন খান
(১৪) বাকেরগঞ্জের তবিরকাঠি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং রিফাত হোসেন জয় (১৪) একই গ্রামের আবদুল কুদ্দুস হাওলাদারের ছেলে। তারা দুজনেই স্থানীয় জেড এ ভুট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ ও নির্যাতনের শিকার দুই কিশোরের পরিবারের সদস্যরা দেশ রূপান্তরকে জানান, চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বরিশালের গৌরনদী থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল শাহ আলমের বাড়ি থেকে গত শনিবার রাতে কয়েকটি কবুতর চুরি হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গত রবিবার সকালে পার্শ্ববর্তী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার তবিরকাঠি গ্রামের কিশোর সজিব ও জয়কে আটক করেন শাহ আলম ও তার ছেলেরা। পরে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বিচার বসিয়ে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে মারধরের নির্দেশ দেন। শাহ আলম সেখানে ব্লেড দিয়ে কিশোর জয়ের মাথার মাঝখান থেকে চুল কেটে দেন। এ ছাড়া বিচারে দুই কিশোরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চুল কাটা এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ওই দৃশ্য স্থানীয় বেশ কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে দেখেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ওই ঘটনার স্থিরচিত্র ও ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে দিলে এলাকায় আলোড়ন তৈরি হয়।
নির্যাতনের এ ঘটনায় জয়ের বাবা আবদুল কুদ্দুস হাওলাদার বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে নলছিটি থানায় রফিকুল ইসলাম, শাহ আলমসহ আটজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ রাতেই রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
আবদুল কুদ্দুস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ছেলের নামে কবুতর চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করে চুল কেটে দিয়েছে। জরিমানার টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে এনেছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
নির্যাতনের শিকার কিশোর জয় বলেন, ‘রবিবার রাত থেকে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়েছে। পুলিশ সদস্য শাহ আলম ব্লেড দিয়ে আমার মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে।’
নলছিটি থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই নির্যাতনের ঘটনায় ইতিমধ্যে যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামি বাকি অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’