একটি ব্রিজের অভাবে দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা বিলহরিবাড়ি-সাবগাড়ি বাজার পয়েন্টের আত্রাই নদে একটি পাকা ব্রিজের দাবি দশ গ্রামের হাজারো মানুষের। সাবগাড়ি বাজার সংলগ্ন ঘাট হয়েই নদের উত্তরপাশের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলহরিবাড়ি, কারিগরপাড়া, হরদমা এবং সিংড়ার কৃষ্ণনগর, কাউয়াটিকরি, পানলি, ডাহিয়া এবং পশ্চিম পাশের সাবগাড়ি, রাবারড্যাম, যোগেন্দ্রনগর ও ভিটাপাড়া গ্রামের মানুষ তাদের ক্ষেতের ফসল নিয়ে পারাপারসহ উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করে থাকেন।

ওই গ্রামগুলোর মানুষ একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ এবং চলনবিলের ফসল নিয়ে আসে। ব্রিজ না থাকায় মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আত্রাই নদে খেয়া নৌকার পরিবর্তে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। দুই পাশে সাঁকো থাকলেও মাঝে নৌকা রেখে দুই পাশের সংযোগ রাখা হয়েছে। উচু-নিচু হওয়ায় বয়স্করা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগীদের ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। নিরূপায় মানুষ তবু ঝুঁকি নিয়ে আত্রাই নদ পারাপার হয়।

বিলহরিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছরের এক ব্যক্তি আব্দুল হান্নান বলেন, “৪৭ বছর কেটে গেছে কেউ কথা রাখেনি। অপেক্ষায় কেটেছে ৪৭ বছর। ভোটের আগে কথা দিলেও কোনো নেতাই কথা রাখেনি। আত্রাই নদে ব্রিজ হয়নি। ব্রিজ না হওয়ার কষ্টে রয়েছেন দশ গ্রামের মানুষ। দুর্ভোগ সয়ে এখনো এলাকার মানুষ বর্ষায় খেয়া নৌকা আর শুকনোয় বাঁশের সেতুতে কষ্টে আত্রাই নদ পারাপার হচ্ছে। ব্রিজ না হওয়ার কারণে এলাকার রাস্তা ঘাটেরও কোনো উন্নয়ন হয়নি।

একই ধরনের কথা বলছিলেন নদীটির পূর্ব পাশের  হরদমা ও কারিগরপাড়া ও বিলহরিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক, সানোয়ার হোসেন, আশরাফুল ইসলামসহ কমপক্ষে ১৫জন।

তারা বলেন, “আত্রাই নদে ব্রিজ না থাকায় তাদের গ্রামে পাকা সড়ক হয়নি। নদটি খরস্রোতা হওয়ায় খেয়া নৌকায় পারাপার হতে সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট।  ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজের যাতায়াত,  ক্ষেতের ফসল বেচাবিক্রিসহ উপজেলা সদরে যেতে হয় আত্রাই নদ পার হয়েই। ভরা বর্ষায় খেয়া নৌকা ডুবি এবং শুকনোয় বাঁশের সাঁকোতে নৌকা পার হতে দুর্ভোগ-ঝুঁকি দুই থাকে।

সাবগাড়ি বাজারের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ওমর আলী বলেন, “এলাকাটি কৃষি প্রধান এবং চলনবিল অধ্যুষিত হওয়ায় এই পয়েন্টে ব্রিজ হওয়া খুবই দরকার।

সাংসদ মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “গেল ১০ বছরে জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক জায়গায় ব্রিজ করা হয়েছে। অতি দ্রুত এই ব্রিজটিও হয়ে যাবে।”