ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান

নতুন কর্মকর্তা দুদক পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ

পুলিশের বহুল আলোচিত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ। গতকাল বুধবার দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান এ তথ্য জানান। মোজাম্মেল হক খান নিজ কার্যালয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরকে তদন্ত কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অপর পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদকে। একই সঙ্গে কমিশনের বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগের মহাপরিচালককে বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত বছর ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পুলিশের উচ্চপদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ পায় দুদক। এরপর উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীর হাত ঘুরে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান এনামুল বাছির। সম্প্রতি ডিআইজি মিজান দাবি করেন, তার কাছ থেকে গত ১৫ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি রমনা পার্কে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা বাছির। পাশাপাশি দুজনের ‘কথোকথনের’ তিনটি অডিও ক্লিপও গণমাধ্যমকে দেন তিনি। এ নিয়ে খবর প্রকাশের পর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে এনামুল বাছির ও ডিআইজি মিজান অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষারও দাবি জানান। দুদক চেয়ারম্যানও বলেছেন, সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত সোমবার সচিবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি বাছিরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে দুদক। একই সঙ্গে ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান কার্যক্রম থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গতকাল দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এনামুল বাছিরকে ঘুষ গ্রহণের জন্য নয়, বরং অনুসন্ধানের তথ্য ফাঁস এবং কমিশনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসদাচরণের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঘুষ নেওয়ার যে অভিযোগ করেছেন সেটা তদন্ত করা হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, ডিআইজি মিজান ঘুষ দেওয়ার মতো অপরাধ করে থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল রাজধানী বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের কনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপী ‘উদ্ভাবনী মেলা ও শোকেসিং-২০১৯’ অনুষ্ঠান উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘নিশ্চয়ই তার (মিজান) কোনো দুর্বলতা আছে, তা না হলে তিনি কেন ঘুষ দেবেন? দুর্বলতা ঢাকতে তিনি ঘুষ দিয়েছেন। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া দুটোই অপরাধ। তার বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার এখনো প্রক্রিয়াধীন।’

অন্যদিকে এনামুল বাছির তার বর্তমান অবস্থার জন্য গণমাধ্যমকে দায়ী করেছেন। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে ঘুষ গ্রহণের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি। বরং করা হয়েছে তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে। কিছু কিছু গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আমি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।’ এনামুল বাছির আরও বলেন, ‘আমি তথ্য ফাঁস করেছি কি না বা আমি কতটুকু দায়ী তার জন্য তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারা রিপোর্ট দেবে।’ ডিআইজি মিজানের দেওয়া অডিও রেকর্ড তার নয়Ñ আবারও এমন দাবি করে এনামুল জানান, তিনি ডিআইজি মিজানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেননি।

গতকাল দুদক উপপরিচালক ঋতিক সাহা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এনামুল বাছিরকে তার কাছে থাকা ডিআইজি মিজান সংক্রান্ত সব নথিপত্র মঞ্জুর মোর্শেদকে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।