চলছিল ঝুঁকি নিয়ে

হাসপাতালে ছাদের পলেস্তারা খসে শিশুসহ আহত ৯

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের পুরনো ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে এবার শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। গতকাল বুধবার ভোর ৬টার দিকের এ ঘটনায় চার শিশুসহ নয়জন আহত হয়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। গণপূর্ত বিভাগ পাঁচ বছর আগে ওয়ার্ডগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে এসে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ জানান, ভোরে শিশু ওয়ার্ডের (৪ নম্বর ওয়ার্ড) ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে চিকিৎসাধীন চার শিশু ও পাঁচ রোগীর স্বজন আহত হয়। আহতরা হলো ইব্রাহিম (৫০), সুমাইয়া (১), ইসমাইল (৮), ইমাম উদ্দিন (৫ মাস), রাসেল (১৬), রাফি (আড়াই বছর), মোজাম্মেল হোসেন, পারুল বেগম (৪৭) ও রোজিনা আক্তার (২০)। এর মধ্যে ইসমাইলের অবস্থা সংকটাপন্ন।

জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বলেন, রোগীদের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো থেকে নির্মাণাধীন অস্থায়ী টিনশেডে স্থানান্তর করা হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগ সেখানে বিদ্যুৎ ও পানির লাইন দিয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান জানান, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০১৫ সালে হাসপাতালটির ৯টি ওয়ার্ডই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। তারপরও গত পাঁচ বছর ওই ৯টি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৭টি ওয়ার্ড ঝুঁকিমুক্ত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত দুই বছরে এ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে অন্তত ৩০ জন আহত হলেও গণপূর্ত কর্র্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত প্রকৌশল দপ্তরের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেন, ‘গত ১০ বছরে ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবন রিপেয়ারের কথা বলে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। অথচ আইন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর সে ভবন রিপেয়ার করা বা ব্যবহার করা যায় না।’ তবে এ ব্যাপারে কিছুই জানা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ফরিদ আহমদ জানান, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে গড়ে ৪০০-৫০০ রোগী ভর্তি থাকে। আউটডোরে গড়ে প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ রোগীকে সেবা দিতে হয়।