বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ২০০ চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়নি। বরং গত মঙ্গলবার স্থগিত হওয়া লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা শিগগিরই শুরু হবে। এমনকি এ নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে বিশ^বিদ্যালয়ের যেসব চিকিৎসক উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন,
তাদের বিরুদ্ধে উপাচার্যের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেলা ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে দুপুর ১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়া সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার বা ফল পুনর্মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএসএমএমইউ সিন্ডিকেট নিয়োগ পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্তেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
উপাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিন্ডিকেট সভায় দুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি হলো গত মঙ্গলবার (১১ জুন) স্থগিত হওয়া মেডিকেল কর্মকর্তা ও ডেন্টাল কর্মকর্তা নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শিগগির আবার শুরু হবে। দ্বিতীয়টি হলো উপাচার্যের কার্যালয় ভাঙচুর ও অন্যান্য ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে।
তবে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উপাচার্য কার্যালয় ভাঙচুরের মামলার ব্যাপারে সিন্ডিকেট সভায় কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান উপাচার্য। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইন অনুযায়ী মামলা চলবে।
সংবাদ সম্মেলনের পরপরই আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে সেøাগান দিতে থাকেন। এ সময় তাদের সঙ্গে বিএসএমএমইউর বিভিন্ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের দেখা গেছে। তারা বলেন, তাদের দাবি অনুসারে, আগামীকাল শনিবারের মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল না হলে রবিবার থেকে বড় ধরনের আন্দোলন করবেন।
এ ব্যাপারে উপাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওরা (আন্দোলনরত চিকিৎসক) বুঝতে পারছে না। সিন্ডিকেট সভার মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত একটি আইনগত ভিত্তি পেয়েছে। এখানে আমার কিছু করার নেই। তা ছাড়া ওরা অযৌক্তিকভাবে আন্দোলন করছে।
বিএসএমএমইউতে ১৮০ জন মেডিকেল অফিসার ও ২০ জন ডেন্টাল চিকিৎসক নিয়োগে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ২০ মার্চ। পরীক্ষায় অংশ নেন ৮ হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসক। নিয়মানুযায়ী সেদিনই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও ফল প্রকাশ হয় দেড় মাসেরও পর, অর্থাৎ গত ১২ মে। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই তাতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন শতাধিক চিকিৎসক। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে। উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ তাদের স্বজনদের নিয়োগ দিতে ফলাফল টেম্পারিং করা হয়েছে।
এরপর গত ৯ জুন আন্দোলনকারীদের কয়েকজন উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের লাঠিপেটার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের শতাধিক চিকিৎসক গত ১১ জুন উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকেই মৌখিক পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বৈঠকের আগে ও পরে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উপাচার্য কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ আনে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। পরে সে রাতে শাহবাগ থানায় ১৫ চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে অর্ধশত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।