নোয়াখালীতে গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণ

ছয় দিন পরও মামলা না নিয়ে উল্টো আসামির জিডি গ্রহণ

নোয়াখালীর সুধারামে এক গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনার ছয় দিন পরও নির্যাতিতার করা অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করে পুলিশ উল্টো বিবাদীর করা জিডি গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিত গৃহবধূর অভিযোগ, ধর্ষণে জড়িত সিরাজুল নামের ওই ব্যক্তি জিডি করার পর এখন তাকে ও তার পরিবারকে এলাকাছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। সিরাজুলের করা জিডিতে ‘ধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। নির্যাতিত গৃহবধূর মামলা নথিভুক্ত না করে বিবাদীর জিডি গ্রহণের বিষয়ে সুধারাম থানার পুলিশ বলছে, কোনো নাগরিক জিডি করতে চাইলে থানা তা গ্রহণ করতে বাধ্য। আর গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তি

আছে কি না, তার তদন্ত চলছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ৯ জুন রাতে ঢাকা থেকে এসে সোনাপুর বাসস্ট্যান্ডে নামেন তিনি। তখন প্রতিবেশী সিরাজুল ও আজিজুল নামে দুই ব্যক্তি তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রিকশায় তোলে। পরে তাকে নেশাজাতীয় পানীয় খাইয়ে অচেতন করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে তারা। ঘটনার পরদিন ১০ জুন গৃহবধূকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই দিনই সুধারাম থানার দুজন পুলিশ কর্মকর্তা হাসপাতালে গিয়ে গৃহবধূকে দেখে আসেন এবং তারাই মামলা নথিভুক্ত করবেন বলে জানিয়ে আসেন। কিন্তু ঘটনার চার দিন পরও কোনো মামলা না হওয়ায় ১৩ জুন দুপুর সাড়ে ১২টায় গৃহবধূ নিজেই থানায় গিয়ে অভিযোগ জমা দেন। কিন্তু এর ৬০ ঘণ্টা পরও গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি। এমনকি অভিযোগ জমা দেওয়ার পর থেকে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা তার সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত করেনি বলে জানান। উল্টো ‘ধর্ষণে’ অংশ নেওয়া সিরাজুল তার বিরুদ্ধে সুধারাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি করার পর সিরাজুল লোকমারফতে তাকে ও তার পরিবারকে এলাকাছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ গৃহবধূর।

ওই গৃহবধূর মা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অত্যাচারীরা আমাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও এলাকাছাড়া করার জন্য হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমরা সুবিচার পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

গৃহবধূর অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করার কারণ জানতে চাইলে সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল বাতেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, অভিযোগটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ‘ধর্ষণে’ জড়িত সিরাজুলের জিডি গ্রহণ করার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো নাগরিক থানায় জিডি করতে চাইলে থানা তা গ্রহণ করতে বাধ্য।’

গৃহবধূর অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করে উল্টো বিবাদীর জিডি গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দিপক জ্যোতি খিসা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই। তবে খোঁজখবর করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 

নেত্রকোনায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ : নেত্রকোনার আটপাড়ায় মাদ্রাসাছাত্রী এক শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিশু কৈলং গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় করা মামলায় গতকাল শনিবার একই গ্রামের প্রয়াত আলী হোসেনের ছেলে জানু মিয়াকে (৬০) আটক করেছে পুলিশ।

‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুর পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিবেশী জানু নিজের ঘর খালি থাকার সুযোগে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। এরই মধ্যে হঠাৎ শিশুটি একবার চিৎকার করে উঠলে তা শুনতে পেয়ে তার বাক্প্রতিবন্ধী বাবা ছুটে যান। তিনি জানুকে ধরে ফেললেও পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পালিয়ে যায়।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান মিয়া বলেন, গতকাল শনিবার দুপুরে শিশুটির পরিবার মামলা করে। পরে গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জানুকে গ্রেপ্তার করা হয়।