অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই থেকে। প্রস্তাবিত বাজেটের সব কিছুই ওইদিন থেকে কার্যকর হবে বলে ধারণা অনেকের। কিন্তু বাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যায় বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই। এবারও তেমনটি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিড়ি, সিগারেট, তৈরি পোশাক, আইসক্রিম ও ভোজ্যতেলের দর বেড়েছে।
রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ১ জুলাই থেকে অর্থবছর শুরু হলেও বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই পণ্যভিত্তিক ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, আমদানি শুল্ক, আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর, রেগুলেটরি ডিউটি কার্যকর করা হয়। না হলে প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব পণ্যের ভ্যাট ও শুল্ককর বাড়ানোর কথা বলা হয়, মাঝখানের সময়ে ওইসব পণ্য মজুদ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া, পরে রাজস্ব বেশি হবে ভেবে অনেকেই মাঝখানের সময়ে কম রাজস্বে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করবে। আবার, বাজেটে যেসব পণ্যের ওপর শুল্ককর ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব করা হয়, সেগুলোর দাম কমার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে ওইসব পণ্যের আমদানি কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরে কম দামে কেনার আশায় ভোক্তারাও ওইসব পণ্য কেনা কমিয়ে দিতে পারেন। এতে বাজার পণ্যের চাহিদা-জোগানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই পণ্যভিত্তিক শুল্ককর ও ভ্যাট হার বাজেট প্রস্তাবের দিন থেকে কার্যকর করা হয়।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, পাম অয়েল, সয়াবিন তেল, সানফ্লাওয়ার তেল, আইসক্রিম, গুঁড়োদুধ, বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, মধু, অলিভ অয়েল, চিনি, স্মার্টফোন, আমদানি করা মোটরসাইকেল, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্য আমদানি ও বিপণনে যে ভ্যাট বাড়ানো বা বসানো হয়েছে, আমদানি ও বিপণন পর্যায়ে তা বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হয়ে গেছে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের দামেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
৩০ জুন বাজেট পাসের সময় কোনো পণ্যে প্রস্তাবিত হারের থেকে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, আমদানি শুল্ক বাড়ানো বা কমানো হলে, বাজেট পাসের দিন থেকে এটি কার্যকর হবে। এবার বাজেট প্রস্তাবের দিন থেকে কার্যকর হওয়া ভ্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের শুল্ককর ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বাজেট প্রস্তাবে যেসব আসবাবপত্র, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, ওয়াশিং মেশিন, এলইডি টিভি, হাতে তৈরি পাউরুটি বা বিস্কুটের ভ্যাট কমানোর কথা বলা হয়েছে। ফলে বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই এসব পণ্য আমদানি ও বিপণনে প্রস্তাবিত হারে শুল্ককর আরোপ হওয়ার কথা। ফলে এসব পণ্যের দাম কমার কথা। যেসব পণ্যের দাম বাড়ার কথা সেগুলোর দাম তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ালেও ‘আগে কেনার’ অজুহাত তুলে যেসব পণ্যের দাম কমার কথা, তা কমাতে বরাবরের মতো এবারও সময়ক্ষেপণ করছেন ব্যবসায়ীরা।
আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ হারে যে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা আছে, তা বাজেট ঘোষণার সময় থেকেই কার্যকর হয়ে গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে ভ্যাট পরিশোধের পর ব্যবসায়ীরা অগ্রিম দেওয়া এই করের সমপরিমাণ অর্থ ফেরত নিতে পারবেন। তবে যেসব পণ্যের ওপর ভ্যাট আরোপ করা নেই, সেসব পণ্যের আমদানিকারকরা আমদানির সময় দেওয়া অগ্রিম আয়কর পরে কমিশনারের কাছে আবেদন করে ফেরত নিতে পারবেন।
বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। নতুন হারে উৎসে কর কাটা শুরু হবে ১ জুলাই থেকে। আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ১ জুলাইয়ের আগেই উত্তোলন করলে গ্রাহককে বাড়তি কর দিতে হবে না। না হলে ব্যাংক ১০ শতাংশ হারে কর কেটে রাখবে।
বাজেটের আয়কর, সম্পদের সারচার্জ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এবং বাজেটে খাতওয়ারী বরাদ্দ ও ব্যয়ের জন্য বরাদ্দের অর্থ ১ জুলাই থেকে ব্যয় করা যাবে। বাজেটের এ অংশ কার্যকর থাকবে পরের অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।