ওই মালতীলতা দোলে

ওই মালতীলতা দোলে পিয়াল তরুর কোলে পুব-হাওয়াতেৃ। রবিঠাকুরের গানে-কবিতায় মালতীর কথা যতটা শোনা যায় বাস্তবে ততটা দেখা মেলে না ওর। বর্ষার বৃষ্টি¯œাত প্রকৃতিতে সবুজ পাতার কোলজুড়ে লতায় লতায় ফোটে মালতী। এবারও আষাঢ়ের এক পশলা বৃষ্টিতে সতেজ লতায় ফুটতে শুরু করেছে ফুলটি। গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণের বাগানে দেখা গেল মালতীর শোভা। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বাগানের সামনে পথপাশে আছে এর কয়েকটি ঝাড়। সাদা ফুল দেখতে অনেকটা জুঁই-শিউলির মতোই, তবে মালতীর পাপড়িগুলো মোড়ানো। পাঁচটি পাপড়িতে অপূর্ব এর গড়ন, আছে সুগন্ধি।

মালতীর শক্ত লতা যেকোনো আশ্রয় ও গাছ বেয়ে অনেক ওপরে ওঠে। ঘন শাখা-প্রশাখায় লতা অনেকটা ঝোপের মতো দেখায়। আষাঢ়-শ্রাবণে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে পুরো ঝাড়। প্রাণবন্ত সবুজ পাতার সঙ্গে থোকায় থোকায় ফুল যেন তারার মতো হেসে ওঠে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এর সৌরভ : ‘বাদল-বাতাস মাতে মালতীর গন্ধে’। বর্ষার আগেও কখনো ফুল ফুটতে পারে। রাতভোরে বাসি ফুল ঝরে যায়। ‘ওই তো মালতী ঝরে পড়ে যায়, মোর আঙিনায়’; রবীন্দ্রনাথের পঙ্ক্তি তুলে ধরে প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মা তার ‘গাছের কথা ফুলের কথা’ বইয়ে লিখেছেন, ‘লাগাও না একটি মালতীলতা তোমার আঙিনায়।’ নজরুলের গানেও শোনা যায় মালতীর সুর, ‘কে নিবি ফুল কে নিবি ফুল টগর যূথী বেলা মালতী’। কবি-সাহিত্যিকদের দৃষ্টি কাড়লেও ফুলটি আমাদের বাগান-উদ্যানে খুব একটা নেই। বর্ষাবিলাসী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের তাই ফুলটি চেনা ও এটি ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।

মালতীর ফুলহীন পাতার সৌন্দর্যও চোখ এড়ানোর নয়। লতার দু’পাশে পাতার বিন্যাস বেশ দৃষ্টিনন্দন। এর আদি নিবাস বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ। শক্ত লতার মালতী ঝাড় বহু বছর বাঁচে। বীজ থেকে চারা হয়। বর্ষার প্রকৃতিতে মালতীলতার শোভা-সুরভি আমাদের জন্য এক অনন্য পাওয়া। রাজধানীতে ফুলটি দেখতে চাইলে যেতে পারেন রমনা পার্ক, শিশু একাডেমির বাগান, ধানম-ির ছায়ানট ভবন প্রাঙ্গণ ও মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে।