চলতি বাজেট অধিবেশন শেষ হলেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও রদবদল হতে পারে। ক্ষমতাসীন দলটির কয়েক কেন্দ্রীয় নেতা এ কথা জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, মন্ত্রিসভায় কয়েক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বদল ও নতুন পাঁচ-সাত মন্ত্রী যুক্ত হতে পারেন। গত ১৩ জুন বাজেট প্রস্তাব পেশের দিন সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। এ খবরে মন্ত্রিসভায় আগের মতোই ফেরার চেষ্টায় আছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা। এক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৩ জুন মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে শিগগির একজনপ্রতিমন্ত্রী যুক্ত করা নিয়ে আলোচনাও হয়।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় দফায় সরকার পরিচালনা করলেও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি শরিক দলগুলোর নেতাদের। এ নিয়ে জোট নেতাদের ভেতরে মান-অভিমানও চলে অনেক দিন। জোটের অনেক বড় নেতা উচ্চবাচ্যও করেন। কিন্তু কিছুই আমলে নেননি সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের খবরে মন্ত্রিসভায় ফেরার প্রত্যাশা করছেন শরিক দলগুলোর নেতারা।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর দুই সদস্য ও দুজন পূর্ণ মন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, মন্ত্রিসভায় আগের মতোই ফিরতে চান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা। এজন্য তারা বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে চারটি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক নেতার সঙ্গে কথা বলেও মন্ত্রিসভায় ফেরা নিয়ে তাদের প্রত্যাশার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশ রূপান্তরকে তারা বলেন, যেহেতু একসঙ্গে লড়াই-সংগ্রাম করেছি, লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও একÑ তাই মন্ত্রিসভায় থাকার প্রত্যাশাটা স্বাভাবিক। অবশ্য প্রকাশ্যে এ প্রত্যাশার কথা জানাতে বিব্রত বোধ করছেন তারা। এজন্য কথাবার্তায় নিয়েছেন কৌশলী অবস্থান।
তবে আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর দুই সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, মন্ত্রিসভা রদবদল ও সম্প্রসারণ হলেও শরিক দলের নেতাদের ফেরার সম্ভাবনা কম। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মনে করেন, এবার জোটের বাইরে থেকে রাজনীতি করুক জোটভুক্ত দলগুলো। কারণ জোটভুক্ত দলগুলোকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে প্রধানমন্ত্রীর। তবে কী সেই পরিকল্পনা তা স্পষ্ট করেননি তারা।
প্রসঙ্গটি নিয়ে ১৪ দলীয় জোটের কয়েক নেতার কাছে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে তারা বলেন, জোট ও সরকার যে এক ও অভিন্ন চিন্তায় এগোচ্ছেÑ তার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হতে পারে মন্ত্রিসভায় জোটের নেতাদের থাকা। এটি সৌন্দর্যও বটে। তবে রাখা না রাখার সম্পূর্ণ এখতিয়ার সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার। ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলাকে ‘অনৈতিক’ মনে করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরিক দলগুলোর কয়েক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবার নিয়ে টানা তৃতীয় দফায় সরকার পরিচালনা করছেন শেখ হাসিনা। এরমধ্যে প্রথম দুই দফাই জোটের নেতারা মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার ব্যত্যয় ঘটেছে। এ নিয়ে কিছুটা মন খারাপ হলেও শরিক দলগুলোর ভেতরে বড় জটিলতা তৈরি হয়নি। তবে জোটের বাইরের বিভিন্ন মহলে তাদের ঐক্য নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে। তাদের একজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এরমধ্যে একটি লক্ষ্য নিয়ে জোট গড়েছি এবং সরকার পরিচালনা করেছি। মন্ত্রিসভায় থাকা মানেই দৃশ্যত জোটের অংশীদারত্ব থাকা। অংশীদারত্ব থাকলে সৌন্দর্য বর্ধন হয় জোটের।’ তবে জোটের নেতারা এও বলেন, সরকারে না থাকলেও জোট নেইÑ এটাও ঠিক নয়।
এ প্রসঙ্গে জোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে কোনো তথ্য আমার জানা নেই। ফলে এই নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আরেক শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, জোট গঠন হয়েছে কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে। সেসব লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এগিয়ে নিতে, বাস্তবায়নে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি কখনো সরকারে দৃশ্যমান থেকে, কখনো সরকারের বাইরে থেকে। তিনি বলেন, সরকারে সরাসরি না থাকলেও আমাদের পরামর্শ দেওয়া-নেওয়ার সুযোগ আছে এবং আমরা তা দিইও। ইনু বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় তিনি কাকে রাখবেন, কাকে রাখবেন নাÑ এর সম্পূর্ণ এখতিয়ার তার নিজের। তাই এই নিয়ে কথা বলতে চাই না। এটা ঠিকও হবে না। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা জোটবদ্ধভাবে আছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থাশীল। মন্ত্রিসভায় রাখা না রাখা তার এখতিয়ার।