নরসিংদীতে ফুলন রানী বর্মণ (২২) নামে এক তরুণীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তিন দিনেও এর নেপথ্য কারণ জানতে পারেনি তদন্তসংশ্লিষ্টরা।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আবদুল গাফফার বলেন, তদন্তে ফুলনের সঙ্গে বেশ কয়েকজনের পরিচয় রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। সেই মোতাবেক সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ফুলন ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফুলনের এক স্বজনের প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও চাচাদের সঙ্গে জমির বিরোধ সামনে রেখে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
গত ১৩ জুন রাতে নরসিংদী পৌর এলাকার বীরপুরে বাড়ি ফেরার সময় কেরোসিন ছিটিয়ে ফুলনের গায়ে আগুন দেয় দুই ব্যক্তি। তিনি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। গত বছর নরসিংদীর উদয়ন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ফুলন।
এ ঘটনায় তার বাবা যুগেন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে অজ্ঞাত দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন জেলার রায়পুরার সজীব রায় (২৪) এবং তার তিন বন্ধু সোহাগ, ইব্রাহিম ও খলিল। সজীবের তিন বন্ধুকে গত শনিবার রাতে আটক করা হয়। এদিকে ফুলন হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সামনে আজ সকালে মানববন্ধন করবে এলাকাবাসী।
ফুলনের বাবা যুগেন্দ্র বর্মণ বলেন, ফুলনের অবস্থা বেশি ভালো নয়। শ্বাসনালিতে সমস্যার কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। শরীরের কিছু অংশে পচন ধরেছে। শ্বাসনালির সমস্যার কারণে ডাক্তাররা অপারেশন করতে পারছেন না। কিছুটা উন্নতি হলে আগামী বৃহস্পতিবার অপারেশন করা হবে।’ আটক সজীবের বিষয়ে তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে সজীবের সঙ্গে ফুলনের তর্কবিতর্ক হয়েছে। তাই তাকে তারা সন্দেহ করছেন।