দ্রুততম সময়ে ১১ হাজার রানের রেকর্ড শচীন টেন্ডুলকারের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচটিকে বেছে নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ৬৫ বলে ৭৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে সেঞ্চুরিয়ান রোহিত শর্মাকে যোগ্য সংগত দিয়ে গেছেন বিশ্ব র্যাংকিং-এর শীর্ষে থাকা কোহলি। ইনিংসটা হয়তো আরও বড় হতে পারত। ওয়াহাব রিয়াজের বাউন্সারে পরাস্ত কোহলি আম্পায়ারের দিকে না তাকিয়েই ফিরে আসেন সাজঘরে। যদিও পরে রিপ্লেতে দেখা গেছে বাউন্সার তার ব্যাট ছোঁয়নি। কিন্তু দিন শেষে বৃষ্টি বিঘিœত ম্যাচে ৮৯ রানের জয়ে তৃপ্তিটাই তার কাছে বড় হয়ে ধরা দিয়েছে।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শতভাগ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণœ রাখার ম্যাচ শেষে ভারত অধিনায়ক স্তুতি গেয়েছেন সতীর্থদের। বিশেষ করে চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় শতকের দেখা পাওয়া ওপেনার রোহিত শর্মা এবং পাকিস্তানের ওপেনার ফখর জামান এবং বাবর আজমকে ফিরিয়ে দেওয়া বাঁহাতি স্পিনার কুলদিপ যাদবকে জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন কোহলি, ‘রোহিত সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। আরেকটি দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়েছে সে। রোহিত যে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওয়ানডে ব্যাটসম্যান, সেটা সে নিয়মিতই প্রমাণ করছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তার সেঞ্চুরি আমাদের বড় সংগ্রহ পেতে সহায়তা দিয়েছে’Ñ ম্যাচ শেষে বলছিলেন কোহলি।
রোহিতের ২৪তম ওয়ানডে শতক, এর সঙ্গে কোহলি ও কেএল রাহুলের দু’টি ফিফটিতে ভারত ৩৩৭ রানের পুঁজি পায়। ৩৫ ওভার পর বৃষ্টির কারণে পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ৪০ ওভারে ৩০২। ওপেনার ইমাম-উল-হক দ্রুত ফেরার পর বাবর আজমকে নিয়ে দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন আরেক ওপেনার ফখর জামান। তাদের জুটি যখন বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছিল পাকিস্তানকে, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন কুলদিপ। বাঁহাতি চায়নাম্যান দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে উইকেট ভেঙে দেন বাবর আজমের (৪৮)। পরের ওভারেই ফখর জামানকে (৬২) ফিরিয়ে দিয়ে ভারতের জয় এক প্রকার নিশ্চিত করেন কুলদিপ। এই জুটির কথা উল্লেখ করেন কোহলি বলেন, ‘কুলদিপ অসাধারণ বোলিং করেছে। বাবরকে যে ডেলিভারিতে আউট করেছে সে, সেটা এক কথায় দুর্দান্ত। আমার মনে হয় বিশ্বকাপে সেরা স্পেলটাই করেছে সে।’ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের উইকেটে প্রথম ইনিংসের মাঝামাঝি বল ঘুরতে শুরু করায় কোহলি তখনই বুঝেছিলেন স্পিনারদের জন্য অনেক কিছুই থাকবে এখানে, ‘বল টার্ন করা শুরু করেছিল আমাদের ইনিংসের মাঝামাঝিতেই। এখানে ঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারলে উদযাপনের অনেক কিছুই মিলবে সেটা বুঝতে পেরেছিলাম। কুলদিপ ঠিক সেটাই করে গেছে।’
চার ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের পর পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে ভারত। পরের ম্যাচটি ২২ জুন তলানিতে থাকা আফগানিস্তানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচের আগে ভারতীয় শিবিরে দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে ভুবনেশ্বর কুমারের ইনজুরি। ওপেনার শিখর ধাওয়ানের পর এই পেসারের চোট স্বভাবতই ভাবিয়ে তুলছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে। যদিও পেশাদারি মনোভাব দিয়েই এসব বাধা টপকে যাওয়ার কথা শোনা গেছে দারুণ প্রত্যয়ী ভারতীয় অধিনায়কের কণ্ঠে, ‘হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে ভুবিকে (ভুবনেশ্বর) হয়তো পরের দু’ তিন ম্যাচ পাওয়া যাবে না। তবে নিশ্চিত সে এই আসরের যে কোনো পর্যায়ে সুস্থ হয়ে ফিরবে। লম্বা এই আসরে এসব সমস্যা আসবেই। সেগুলোতে বিচলিত না হয়ে পেশাদারি মনোভাব নিয়ে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’