ডারউইন থেকে ম্যাকায়ে পৌঁছাতে বেশ ধকল পোহাতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। বাস, বিমান মিলিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা পথেই কেটে গেছে। দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু শহরে পা রাখতেই ক্লান্তি ফুটে উঠছিল মুশফিকুর রহিম, লিটন দাসদের চোখে-মুখে। মঙ্গলবার রাতে সেখানে পৌঁছানোর পর এই ক্লান্তি দূর করতে গতকাল অর্থাৎ বুধবারের অনুশীলন স্থগিত করে সফরকারীরা। জিম আর সুইমিং করেই দিন পার করেন তাসকিন আহমেদরা। তবে স্থানীয় সময় দুপুরে জিমে যাওয়ার আগে টিম হোটেলের সামনে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন শরিফুল ইসলাম। তখন এই বাঁহাতি পেসারকে উদ্দেশ্য করে মজা করতে দেখা যায় মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন, এবাদত হোসেনকে। ছোট ছোট এই ছবিগুলোই বলে দেয়, অস্ট্রেলিয়ায় কতটা ফুরফুরে মেজাজে আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
অজিদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ডারউইন টেস্ট জয়ের ম্যাচে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে ছিলেন না শরিফুল। চোটের কারণে দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরেছেন তিনি। অথচ এখন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অন্যতম সদস্য, চোটে না পড়লে ডারউইনে খেলার কথা ছিল তার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন একটি ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে একাদশে না থাকলেও আফসোস নেই এই বাঁহাতি পেসারের, ‘আমার খুবই ভালো লেগেছে। এমন একটি জয়ের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে। অন্তত স্কোয়াডের সঙ্গে ছবিতে তো থাকতে পেরেছি (হাসি)! আমরা এই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করব এবং দেখা যাক কত দূর যেতে পারি।’
শরিফুল এখন তিন সংস্করণের নিয়মিত সদস্য। টানা খেলার মধ্যে থাকায় বিশ্রাম পাচ্ছিলেন না। এজন্য চোটে পড়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি, ‘না, দুর্ভাগ্য বলব না। যেটা হয়, সেটা তো বলে-কয়ে হয় না। যেটা হয়, আল্লাহ ভালোর জন্যই করেন। চোটের পর কিছুদিন বিশ্রাম পেয়েছি, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ছিলাম। আমার মনে হয়, শরীরের জন্য ভালো হয়েছে।’ ডারউইন টেস্টে দলের বাইরে থেকে সতীর্থদের জন্য প্রার্থনা করেন শরিফুল, ‘যারা খেলছে, তাদের জন্য আমি দোয়া করেছি। যেন তারা সেরাটা দিতে পারে এবং আমরা যেন জিততে পারি। ম্যাচ যখন জিতেছি, আমি বেশি খুশি হয়েছি।’
জিম্বাবুয়েতে পাওয়া চোটে গোটা অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েন শরিফুল। তবে দ্রুত সেরে উঠেছেন তিনি। দেশে ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করে এখন মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন। তবে বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্ট মধুর সমস্যায় পড়েছে। ডারউইনে তার পরিবর্তে খেলা এবাদত ভালো করেছেন। তাছাড়া সহজে ‘উইনিং কম্বিনেশন’ ভাঙতে চায় না সফরকারীরা। অর্থাৎ ম্যাকায়েও শরিফুলকে বল হাতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সতীর্থরা ছন্দে আছে, এতেই যেন খুশি শরিফুল, ‘পেসাররা ভালো করলে ভালো লাগে। বাংলাদেশ দল যখন ভালো করে, ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই যখন ভালো করে, তখন আরও বেশি ভালো লাগে। ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করলেই কিন্তু আমরা জয়টা ছিনিয়ে আনতে পারি।’ সিরিজ জয় ছাড়া ভাবছেন না এই বাঁহাতি পেসার, ‘কোন দল চায় না সিরিজ জিততে? আমরাও চাচ্ছি সিরিজ জিততে। সেই চেষ্টাই করব।’