মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হিসাবের ব্যালেন্স জানতে অর্থ ব্যয় করতে হবে। আগে এ সেবাটি বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও এখন থেকে প্রতিবার ব্যালেন্স জানতে ৪০ পয়সা করে দিতে হবে মোবাইল ফোন অপারেটরকে। গত ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনার মাধ্যমে বিকাশ, রকেট, নগদ, এমক্যাশ, ইউক্যাশ, টিক্যাশের মতো মোবাইলফোনভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে মোবাইল ফোন অপারেটরদের এ অর্থ দিতে বলেছে।
অবশ্য মোবাইল ফোন অপারেটরদের এ অর্থ গ্রাহক নাকি আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নাম প্রকাশে মোবাইলফোনভিত্তিক একাধিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যালেন্স জানান ব্যয় গ্রাহককে দিতে হবে। এরফলে হিসাব পরিচালনায় তাদের ব্যয় বেড়ে যাবে। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিতে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস অপারেটরগুলো (এমএফএস) মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্যই অর্থ দিতে হবে এমএফএস অপারেটরগুলোকে। এ বিষয়ে বিকাশের কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্দেশনার বিষয়টি আমরা জেনেছি, কিন্তু কোনো চিঠি এখনো আমরা পাইনি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মোবাইল ফোনভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মোবাইল অপারেটরদের একটি চুক্তি করতে হবে, যা আবার বিটিআরসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এই প্রক্রিয়াটা শেষ হতে হবে এবং যতদিন পর্যন্ত না এটা শেষ হচ্ছে, ততদিন গ্রাহককে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে না। বিকাশ তার গ্রাহকদের কাছ থেকে দুটো ক্ষেত্রে চার্জ নিয়ে থাকে। একটা হচ্ছে ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে ১ টাকা ৮৫ পয়সা ও সেন্ড মানির ক্ষেত্রে ৫ টাকা। এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেই বলে বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিটিআরসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রাহকের প্রতিবারের লেনদেন, ব্যালেন্স অনুসন্ধান, বিবরণী দেখা ইত্যাদিকে পৃথক একটি সেশন (আনস্ট্রাকচারড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডেটা- ইউএসএসডি) ধরা হবে। প্রতিটি সেশনের মেয়াদ ৯০ সেকেন্ড। পৃথক পৃথক সেশনের জন্য গ্রাহককে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে ৮৫ পয়সা করে দিতে হবে। প্রতিটি সেশনে এসএমএস থাকবে দুটো। আর্থিক লেনদেন ছাড়া অন্য কাজের জন্য প্রতিবার ৪০ পয়সা করে দিতে হবে। মূলত আর্থিক লেনদেন ছাড়া ব্যালেন্স দেখার কাজই করেন গ্রাহক।