বিনিয়োগে আগ্রহী ব্রিটিশরা

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইউকে বাংলাদেশ ক্যাটালিস্টস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ব্রিটিশ নাগরিকরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে অনেক আগ্রহী।

গতকাল মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতাদের সঙ্গে সফররত ইউকে বাংলাদেশ ক্যাটালিস্টস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, ২০১৮ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪৩৭ কোটি ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩৯৮ কোটি

ডলার, আমদানি করেছে ৩৮ কোটি ডলার। তিনি জানান, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশে প্রায় ২০০টির মতো ব্রিটিশ কোম্পানি ব্যাংকিং, জ্বালানি, অবকাঠামো, কনসালট্যান্সি, শিক্ষা প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগ করেছে। তিনি ব্রিটেনের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, জাহাজ নির্মাণ,

ওষুধ শিল্প, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, পুঁজিবাজার প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

ইউকে বাংলাদেশে ক্যাটালিস্টস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বর্তমানে বাংলাদেশের অনুকূলে রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য, ফলমূল প্রভৃতির ব্রিটেনে প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি বজলুর রশিদ বলেন, বর্তমানে প্রায় ২৪০টি ব্রিটিশ কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ব্রিটিশ নাগরিকরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী, যা খুবই আশাব্যঞ্জক একটি বিষয়। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বাড়ানোর জন্য ঢাকা চেম্বারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। বজলুর রশিদ বলেন, ব্রেক্সিটপরবর্তী সময়ে ব্রিটেনে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ সুযোগে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ব্রিটেনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্রিটেনে ১২ হাজার রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের লেনদেন হয়ে থাকে এবং এ রেস্টুরেন্টগুলোতে বাংলাদেশে উৎপাদিত মসলা ও কৃষিপণ্য রপ্তানির প্রচুর সুযোগ রয়েছে।

এ সময় ডিসিসিআই পরিচালক এনামুল হক পাটোয়ারী, খন্দকার রাশেদুল আহসান, মো. রাশেদুল করিম মুন্না, পারটেক্স গ্রুপের পরিচালক শওকত আজিজ রাসেল, ইউকেবিসিসিআইর পরিচালক ব্যারিস্টার আনোয়ার বাবুল মিয়া, ফারজানা হোসাইন নিলা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।