চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকায় মায়ের হাতে খুন দুই শিশু

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিজের দুই বছরের শিশুসন্তানকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার ভোরে জেহালা ইউনিয়নের সনাতনপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত স্নেহা একই এলাকার পল্লীচিকিৎসক মামুনুর রশিদের মেয়ে। স্নেহাকে হত্যার অভিযোগে তার মা শামীম আরা সাইমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তার চিকিৎসা চলছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকায় এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে তার সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার রাতের এ ঘটনায় সন্তানের সঙ্গে ওই নারীও ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে আলমডাঙ্গা থানার ওসি আসাদুজ্জামান মুন্সি দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল ভোরে পরিবারের সদস্যরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় শামীম আরা সবার অজান্তে স্নেহাকে ঘুম থেকে তুলে দোতলা বাড়ির ছাদে নিয়ে যান। সেখানে ধারালো বঁটি দিয়ে জবাই করে হত্যা করেন শিশুটিকে।

নিহতের বাবা মামুন অর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নেহাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ির দোতলার ছাদের রান্নাঘরে তার জবাই করা মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা। পরে আলমডাঙ্গা থানায় খবর দেওয়া হলে সকাল ৮টার দিকে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’

স্নেহার চাচা মিস্টার বলেন, ‘আমার ভায়ের স্ত্রী শামীমা বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। এর আগেও স্নেহাকে হত্যার চেষ্টা চালায় শামীমা। তবে সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যায় স্নেহা।’

আলমডাঙ্গা থানার ওসি আসাদুজ্জামান মুন্সি বলেন, ‘স্নেহাকে হত্যার অভিযোগে তার মা শামীম আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার শিশুকন্যাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারালো বঁটিটি উদ্ধার করা হয়েছে।’

ঢাকায় মেয়েকে ‘ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা’: রাজধানীর মুগদা থানা এলাকার মানিকনগরে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে তার সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত শিশুটির নাম রোজা ফারদিন। গত রবিবার রাতের ওই ঘটনায় সন্তানের সঙ্গে মা রোকসানা আক্তার রুমি (৩২) নিজেও ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।

প্রতিবেশীদের উদ্ধৃত করে পুলিশ জানিয়েছে, আইসক্রিমের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে খাওয়ানোর পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে কান্নাকাটি করলে তাকে কোলে নিয়ে ঘর থেকে বের হন ওই নারী। তখন মা-মেয়ের মুখে ফেনা দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা তাদের হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আর মা রোকসানা আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির লাশ ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের চাচা সোহেল খান দেশ রূপান্তরকে জানান, রোজার বাবা মঞ্জুর হোসেন এক মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর রোকসানা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

মুগদা থানার এসআই ফজল মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রবিবার রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে রোকসানা তার মেয়ে রোজাকে আইসক্রিমের সঙ্গে মিশিয়ে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান এবং তিনি নিজেও খান। রোকসানাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।’