আধুনিক বিশ্বে ‘টেকসই অর্থনীতি’ এক সর্বাধিক উচ্চারিত বুলি, যা তাত্ত্বিক আলোচনার বা সমাজবিদদের চিন্তাভাবনার একটি প্রধান লক্ষ্যও বটে। কিন্তু এই লক্ষ্যে যেন কখনোই পৌঁছানো যায় না, বা তা কখনোই অর্জিত হয় না। এর কারণ আছে এর উৎসে, অর্থাৎ পুঁজিবাদী অর্থনীতির দর্শনে, যে দর্শনের বাহন উৎপাদন প্রতিযোগিতা আর বাজার দখল, যার চালিকাশক্তি পুঁজি, লক্ষ্য মুনাফা। ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কারখানার মালিকরা অতীতে সিন্ডিকেট করে বাজার দখল করত ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের তাড়িয়ে দিত। আন্তঃরাষ্ট্রিক বাণিজ্যে পণ্যের বাজার দখলের জন্য এমনকি তারা রাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তেও উৎসাহী করত। এই ব্যবস্থা এখনো চলছে। কারণ পুঁজি অন্যের সম্পদ দখল না করে বাড়বাড়ন্ত হতে পারে না, সেই সম্পদ মানুষের ব্যক্তিগত হোক বা সকলের। পুঁজি অন্যকে বঞ্চিত না করে মুনাফা অর্জন করতে পারে না, এই বঞ্চিতরা কারখানার শ্রমিক হোক বা জনগণ। তাই পুঁজিবাদের ফল হয় প্রতিদ্বন্দ্বী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস এবং এর শিকার হয় ঐতিহাসিক অধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ। পুঁজিবাদ তাই মুনাফা ও সাফল্যের সঙ্গে পুঞ্জীভূত করে সর্বগ্রাসী লোভ এবং বঞ্চিতদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয় শত্রুতার আগুন। ফলে পুঁজিবাদী অর্থনীতি যে ধ্বংসের আগুন জ্বালিয়ে যেতে থাকে তাতে ‘টেকসই অর্থনীতি’র গল্পটি গল্পই থেকে যায়।
‘টেকসই অর্থনীতি’র বুলি পুঁজিবাদী তাত্ত্বিকদের দেওয়া। এর বিপরীতে মার্কসবাদী তাত্ত্বিকরা দেন সাম্যবাদের বুলি। এরা পোশাকে বিপ্লবী, অর্থাৎ যেন কালই বিপ্লব করে সমাজটাকে পাল্টে দিতে প্রস্তুত আছেন। কিন্তু তারা যে সাম্যবাদী সমাজের স্বপ্ন দেখান, তাদেরই কথায় মনে হয় সে সমাজ আসবে অযুত বা লক্ষ বছর পরে। তারা বলেন, ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুঁজির মালিক শ্রমিকদের ঠকিয়ে এবং উৎপাদনের উদ্বৃত্ত আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। তাই তারা এমন এক রাষ্ট্র গড়তে চান যেখানে শ্রমিকদের একনায়কতন্ত্র থাকবে। শ্রমিকদের একনায়কতন্ত্রের ঐ রাষ্ট্রে পুঁজির মালিক হবে জনগণ, তখন শ্রমিকরা উৎপাদনের উদ্বৃত্ত সকলে ভাগ করে নিয়ে সকলেই সম্পদের অধিকারী হতে পারবে। তাদের এই পথ এক সুদূরপ্রসারী পথের প্রথম ধাপ, যার নাম সমাজতন্ত্র, যার শেষে আছে সাম্যবাদ, যখন রাষ্ট্র বলে আর কিছুর প্রয়োজন হবে না, তাই তা থাকবেও না। মার্কসবাদী তত্ত্বে অনেক মানবিক ধ্যান-ধারণা আছে, তাই এতে উদারবাদী ও মানবতাবাদীরা আকৃষ্টও হন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় ও বেশ কয়েকটি দেশে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি দেশে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হয়। এরপর ১৯৪৯ সালে চীনে মার্কসবাদীদের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এই তত্ত্বই সারা বিশ্বে এক নতুন সভ্যতার সূচনা করবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৯০ সাল নাগাদ রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশে মাকর্সবাদী সরকারগুলোর পতন হলে অনেকে হতভম্ব হয়ে যান।
সমাজতান্ত্রিক কিংবা ধনতান্ত্রিক উভয় ধরনের রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই এক প্রকার ‘টেকসই অর্থনীতি’ স্থাপন করার উদ্যোগ দেখা যায়। ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই প্রকার অর্থনীতি গড়তে উদ্যোগী হন ব্যক্তিরা, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উদ্যোগী হয় সরকার। বলাই বাহুল্য, উভয় রাষ্ট্রেই থাকে এক বিশাল আমলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী। এই দু’য়ের মাধ্যমেই রাষ্ট্র সার্বভৌম হয় এবং তার আইন ও শক্তি প্রয়োগ করে। বলাই বাহুল্য এই দুই বিশাল বাহিনীকে প্রতিপালন করতে হয় জনগণের অর্থ দিয়ে। রাশিয়া এবং চীনে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার প্রতিষ্ঠার পর ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে পুঁজিপতিদের প্রতারণা ও শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিক ও জনগণ বিদ্রোহী হতে থাকে, ফলে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে বিপ্লবের সম্ভাবনা দেখা দিতে থাকে। তখন সম্পদের মালিকরা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পূরণ করে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেয়। এর ফলে আসে ‘কল্যাণকর রাষ্ট্র’ গঠনের তত্ত্ব। এরপর থেকে উভয় ধরনের রাষ্ট্রেই ‘টেকসই অর্থনীতি’ বলতে সেটাই চাওয়া হলো যা রাষ্ট্রের আমলা ও সেনাবাহিনী প্রতিপালনসহ জনগণকে তাদের মৌলিক সুবিধাগুলো দেওয়ার অর্থ জোগান দিতে পারবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে ইউরোপে পুঁজিপতিদের সিন্ডিকেট পরিচালনার পাশাপাশি ‘করপোরেট মালিকানা’র তত্ত্ব দানা বাঁধতে থাকে। এসময় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে ‘কমিউন’ নামে এবং ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে ‘সমবায়’ নামে ‘করপোরেট মালিকানা’র তত্ত্ব বিকশিত হতে দেখা যায়। কিন্তু এই দুই ব্যবস্থাতেই সৃষ্টি হতে থাকে কর্তৃত্ববাদী আমলাতন্ত্র এবং ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির চর্চা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ‘সমবায়’ ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে ‘করপোরেট মালিকানা’ এবং ‘কল্যাণকর রাষ্ট্র’ সৃষ্টির ব্যবস্থা ইউরোপের অনেকগুলো রাষ্ট্রে শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লবকে ঠেকিয়ে দিতে পারে। এই ব্যবস্থার ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে আধুনিক ইউরোপ। ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে জনগণের মৌলিক সুবিধাগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা এতই আকর্ষণীয় হয় যে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো ক্রমশ এর থেকে পিছিয়ে যেতে থাকে ও তাদের দেশের জনগণ হতাশ হতে থাকে। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে ‘কমিউন’ ব্যবস্থার পতন হয় ষাটের দশক নাগাদ। সোভিয়েত ইউনিয়ন জোর করে এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে আশির দশকে মুখ থুবড়ে পড়ে। চীন এই ব্যবস্থা ত্যাগ করে নব্বইয়ের দশকে। বিশ্বের অন্যান্য ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো ‘সমবায়’ ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে রাষ্ট্রগুলোকেই রুগ্ণ আর দুর্নীতিগ্রস্ত করে দেয়। এর ফলে ইউরোপ হয়ে যায় অর্থনীতির আদর্শ এবং বিশ্বের স্বর্গ। তাই উনিশশো ষাটের দশক থেকে সারা বিশ্বের আলোকিত মানুষদের ইউরোপে মাইগ্রেশন করার স্রোত বয়ে যেতে দেখা যায়। ইউরোপ হয়ে যায় প্রথম বিশ্ব, কমিউনিস্ট শাসিত দেশগুলো দ্বিতীয় বিশ্ব আর পৃথিবীর অন্য দেশগুলো তৃতীয় বিশ্ব।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে কমিউনিস্ট সরকারের পতনের পর ঐসব দেশ থেকে এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে আলোকিত মানুষদের ইউরোপের দেশগুলোতে মাইগ্রেশনের স্রোত এখনো বয়ে চলছে। যদিও ইউরোপের এই ভাবমূর্তির ভেতরে যে বিরাট শূন্যতা আছে তা ক্রমশ স্পষ্টও হয়ে আসছে। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির পতনের পর ধনতান্ত্রিক অর্থনীতি যেন সারা বিশ্বকে পেয়ে বসেছে। এই অর্থনীতির মূল বাহন ঋণ। প্রথম বিশ্বের দেশগুলোতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পূরণ করা হয় বটে কিন্তু সে জন্য তাদের বিপুল পরিমাণে ঋণের বোঝা বইতে হয়। ধনতান্ত্রিক দেশগুলোর প্রধান মাতব্বর যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ইত্যাদি সুবিধাগুলো পেতে সরাসরি ঋণ দেওয়া হয়, যা থেকে তারা ঐসব সুবিধা ক্রয় করতে পারে। ইউরোপের দেশগুলোতে সরকার এসব বহন করে, কিন্তু রাষ্ট্রই এ জন্য জনগণের হয়ে ঋণ গ্রহণ করে। এর কারণ, রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় থেকে এর আমলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীকে পালন করে জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্য উদ্বৃত্ত অর্থ থাকে না। অথচ ঐসব রাষ্ট্র নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পূরণে দায়বদ্ধ। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে রাষ্ট্র নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পূরণ করতে দায়বদ্ধ নয়। এ দেশগুলোতে নাগরিকদের জীবনের চাহিদা পূরণের জন্য শ্রম দিয়ে উপার্জন করতে হয়। কিন্তু এই শ্রম দিয়ে সাধারণ নাগরিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি পায় না, বরং ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পদে পদে প্রতারিত হয়। এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য সমাজতন্ত্র পরবর্তী দ্বিতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোতে এখন মাফিয়া রাজত্ব চলছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে গণতন্ত্রের নামে চলছে কালোটাকার দৌরাত্ম্য, স্বৈরতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র আর একনায়কতন্ত্র।
যে যাই বলুক, সারা বিশ্ব এখন পুঁজিবাদী দর্শনের খপ্পরে পড়ে গেছে। এ কারণেই এখন ‘সামাজিক ব্যবসা’ করার নামে একজন ঋণমুক্ত সাধারণ মানুষকেও ঋণগ্রস্ত করার তত্ত্ব বাহবা পায়, নোবেল পুরস্কার কুড়ায়। এমনকি সামাজিক ব্যবসার তত্ত্ব একদা কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত চীনের নাগরিকদেরও ঋণের জালে বেঁধে ফেলছে। বর্তমান যুগের এই পুঁজিবাদী দর্শন পুরো বিশ্বটাকেই তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশ এখন অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণে ঋণী। ইন্টারনেটে দেখানো চলমান ঘড়িতে সারা বিশ্ব এবং প্রতিটি দেশের ঋণের হিসাব দেখা হচ্ছে, যাতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর তুলনায় প্রথম বিশ্বের দেশগুলোর মোট ও ব্যক্তিপ্রতি ঋণ পঞ্চাশ থেকে শতগুণ বেশি বলে দেখা যায়। প্রকৃত অবস্থা এই যে, বর্তমান পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে ঋণের নামে দেওয়া অর্থ এবং আদর্শের নামে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সবকিছুই শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে। এই অর্থনীতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জাতিগত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। উন্নয়ন প্রকল্পের আগ্রাসনে তারাও যেন শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে। পুঁজিবাদী অর্থনীতির একটা বড় ভাঁওতা ‘করপোরেট সামাজিক দায়িত্ব’ নামের তত্ত্ব। এই তত্ত্বের নামে ব্যয়িত অর্থের সিংহভাগ পুঁজিবাদী দর্শনের তথ্য বিকৃতকরণ এবং মিথ্যা প্রচারণা চালানোর কাজেই ব্যয় হয়।
আধুনিক সমাজে অর্থনীতিবিদরাই সবচেয়ে বড় পন্ডিত। রাষ্ট্র পরিচালনায় তারাই মন্ত্রণাদাতা, তারাই ভবিষ্যৎদ্রষ্টা। তাদের দেওয়া অর্থনীতির মন্ত্রে থাকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া, জনকল্যাণ রাষ্ট্র সৃষ্টি করা ও কর্মক্ষমদের কর্মসংস্থান করার অঙ্গীকার। কিন্তু কোনোটাই হয় না, তাদের পরামর্শে পরিচালিত রাজনীতিবিদদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মিথ্যা হয়ে যায়। তবুও অর্থনীতিবিদদের আলাপে থাকে তত্ত্বের কচকচি আর সাজানো সাফল্যের গল্প। নাগরিকরা করে বিলাপ, কষ্টার্জিত পুঁজির মূল্যহ্রাস নিয়ে, ব্যর্থ প্রকল্পের অত্যাচার নিয়ে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় ঘুরে ফিরে আসে ‘টেকসই অর্থনীতি’র প্রসঙ্গ, যা পরামর্শকদের লোভনীয় ক্ষেত্র। অসত্য পরিসংখ্যান দিয়ে যার সূচনা, অসত্য পরিসংখ্যান দিয়ে যার শেষ। ‘টেকসই অর্থনীতি’র প্রকল্পে কাজ শুরু হওয়ার আগেই সিংহভাগ ব্যয় হয়ে যায়; তাই পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে কাজ বাস্তবে শেষ হয় না। তবু মেয়াদ শেষে সাফল্যের গল্প প্রচার করে অর্থনীতিবিদরা। এরপর অবাস্তব লক্ষ্য ও অসম্ভব শর্তযুক্ততার কারণে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে বসে যায়।
‘সাম্যবাদী অর্থনীতি’র নিদর্শন খুঁজতে গিয়ে আদিম সমাজ নয়, আমরা নিকট ইতিহাসের নিদর্শন থেকেও অনেক কিছু জানতে পারি, যখন অবিরাম যুদ্ধ বড় বড় সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ঐসব সভ্যতার যেসব কীর্তি এখনো টিকে আছে তা দেখে আমরা বিজ্ঞানের এই সাফল্যের যুগেও বিস্মিত না হয়ে পারি না। মার্কসবাদী অর্থনীতিবিদদের দর্শনে মানবসমাজ একদিন বিবর্তনের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যাবে যখন আদিম সমাজের মতো রাষ্ট্রের প্রয়োজন হবে না। তারা যে সমাজের কথা বলেন তা অযুত বছর পরে হলেও নিকট ভবিষ্যতেই আমরা রাষ্ট্রবিহীন মানব সমাজের দিকে এগুচ্ছি বলে মনে হয়। পুঁজিবাদের দেউলিয়াত্ব এবং সংঘাত, দূষণ ও যুদ্ধ সারা বিশ্বের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে ভেঙে তছনছ করে দিচ্ছে। কৃষি বা শিল্পে বিজ্ঞানের বর্তমান উন্নতি পরবর্তী প্রজন্মকে শুধুই ভোক্তা করছে, প্রযুক্তি ও সভ্যতার বাহক করছে না। ইতিহাসের মার হলো এই যে, সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেলে পরবর্তী প্রজন্ম উত্তরাধিকার হিসেবে কিছুই পায় না। তাই বর্তমান সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেলে নিকট ভবিষ্যতেই আমরা হয়তো এক ধরনের সমাজ পেয়ে যেতে পারি যা আদিম না হলেও হবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণহীন।
মানব সমাজের বর্তমান সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে ‘টেকসই অর্থনীতি’র গল্প করে নয়, প্রকৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘প্রাকৃতিক অর্থনীতি’ চর্চা করতে হবে। ‘প্রাকৃতিক অর্থনীতি’, ‘প্রকৃতির অর্থনীতি’ নয়। ‘প্রকৃতির অর্থনীতি’তে ‘কার্বন চক্র’, ‘নাইট্রোজন চক্র’, ‘পানি চক্র’ আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব আবর্তিত হতে থাকে। ‘প্রাকৃতিক অর্থনীতি’তে ‘সম্পদ চক্র’ থাকবে, উদ্বৃত্ত বা বর্জ্য বলে কোনো কিছু থাকবে না। তাতে মানবসহ সকল স্থলজ ও জলজ জীব, গাছপালা, পানি ও খনিজ সম্পদ এবং উৎপাদনের অবশিষ্ট ‘রিসাইক্লিং’ হয়ে উৎপাদনের জোগান হিসেবে আবর্তিত হতে থাকবে।
পুঁজিবাদের দেউলিয়াত্ব এবং সংঘাত, দূষণ ও যুদ্ধ সারা বিশ্বের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে ভেঙে তছনছ করে দিচ্ছে। কৃষি বা শিল্পে বিজ্ঞানের বর্তমান উন্নতি পরবর্তী প্রজন্মকে শুধুই ভোক্তা করছে, প্রযুক্তি ও সভ্যতার বাহক করছে না। ইতিহাসের মার হলো এই যে, সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেলে পরবর্তী প্রজন্ম উত্তরাধিকার হিসেবে কিছুই পায় না। তাই বর্তমান সভ্যতা ধবংস হয়ে গেলে নিকট ভবিষ্যতেই আমরা হয়তো এক ধরনের সমাজ পেয়ে যেতে পারি যা আদিম না হলেও হবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণহীন
লেখক
প্রকৌশলী ও চেয়ারম্যান, জল ও পরিবেশ ইনস্টিটিউট