খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গাজী এজাজ আহমেদ নির্বাচিত হওয়ার পর তার কর্মী-সমর্থকরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা সরোয়ারের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়।
পরাজিত উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, বুধবার সকালে শোভনা ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত বৈদ্যের নেতৃত্বে বিজয়ী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী মোস্তফা সরোয়ারের সমর্থিত নেতা-কর্মীর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দেয়। এতে অনেক ব্যবসায়ী ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি চলে যায়।
পরে তারা সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সরদার শাহিনুজ্জামান শাহিনকে পিটিয়ে আহত ও বর্তমান ইউপি সদস্য আসলাম খানকে লাঞ্ছিত করে। দুপুর ১২ টার দিকে তারা সুরঞ্জিত বৈদ্যের নেতৃত্বে বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হওয়া নৌকা সমর্থকদের ধাওয়া করে।
এ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের ডুমুরিয়া সংবাদদাতা জিএম আব্দুস ছালাম ও স্থানীয় দৈনিক পূর্বাঞ্চলের সংবাদদাতা জাহিদুর রহমান বিপ্লব সেখানে গেলে তাদেরও তারা লাঞ্ছিত করে। পরে তারা ডুমুরিয়া কাঁচা বাজারের রুহুল মোল্লার চিংড়ি ডিপো এবং বাসস্ট্যান্ডে তৃপ্তি মিষ্টান্ন ভান্ডারে তালা মেরে বন্ধ করে দেয়।
এছাড়া তারা নৌকার সমর্থক পলাশের চায়ের দোকানে হানা দিয়ে তাকে না পেয়ে তার ছোট ভাই প্রসেন ঘোষকে এবং সাজিয়াড়া গ্রামের মাহিন্দ্র ড্রাইভার আসলামকে মারপিট করে। এছাড়া বিজয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এজাজের লোকজন চুকনগর এলাকার নোয়ারকুল ও মহিষকুড়া বিলে আটলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সামাদ শেখের মাছের ঘের এবং গুটুদিয়া ইউনিয়নের বিলপাবলা এলাকার নিউটনের মৎস্য ঘের দখল করে নিয়েছে।
মোস্তফা সরোয়ার বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই বিজয়ী প্রার্থীর লোকজন নৌকা সমর্থকদের উপর হামলা চালাচ্ছে। আমার কর্মী-সমর্থকদের মারপিট করা হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য বিজয়ী প্রার্থী গাজী এজাজ আহমেদের মুঠেফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেনি।
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের খবর আসছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।