বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাতারে সেলিমা ও টুকু

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের তিন বছরেরও বেশি সময় পর সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করেছে বিএনপি। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই দুই সদস্যের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে তাদের অবস্থান কমিটির সদস্যদের তালিকার কোথায় হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। অবশ্য লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাউন্সিলের পর শূন্য রাখা দুই জায়গায় নতুন দুই সদস্য অন্তর্ভুক্ত হবেন। এদিকে স্থায়ী কমিটির নতুন দুই সদস্যের নাম ঘোষণার পর দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তাদের কেউ কেউ খুশি হয়েছেন। কারও কারও মধ্যে রাগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ নেতারা বলেন, টুকু আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বেয়াই। আর সেলিমা রহমানের ভাই রাশেদ খান মেনন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। তাদের না করে বিএনপি পরিবারের কাউকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করলে ভালো হতো। 

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৯ জন। এর মধ্যে দলের চেয়ারপারসন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদাধিকার বলে স্থায়ী কমিটির সদস্য। আর গত কাউন্সিলে বাকি ১৬টি পদের মধ্যে ১৪টি পূরণ করা হয়। ওই ১৪ জনের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ার মারা যাওয়ায় শূন্য পদ দাঁড়ায় পাঁচটি। গতকাল দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তিনটি শূন্য রয়েছে।

স্থায়ী কমিটির নতুন দুই সদস্যের অবস্থান তালিকার কোথায় হবে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এইমাত্র ঢাকায় ফিরলাম। এখনই কিছু বলতে পারব না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানাতে পারব।’ নতুন সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন দুই সদস্যের তালিকায় কী অবস্থান হবে তা পরে জানা যাবে। 

এদিকে স্থায়ী কমিটির নতুন দুই সদস্যের নাম ঘোষণার পর বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রবিউল ইসলাম পলাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘আব্দুল্লাহ আল নোমান ভাইকে অবহেলা কেন? মূল্যায়িত হলে খুশি হতাম।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্থায়ী কমিটির তিন সদস্যের মৃত্যুতে তাদের পদে আসার আগ্রহ ছিল দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও আব্দুল্লাহ আল নোমানের। দলের শুভাকাক্সক্ষী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে একাধিক অনুষ্ঠানে নোমান ও হাফিজকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছিলেন।

নতুন দুজনের প্রতিক্রিয়া : বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজের পক্ষে নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত রয়েছেন টুকু। স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মূল্যায়ন করে স্থায়ী কমিটির সদস্য করায় আনন্দিত।’ জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বিএনপির কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে টুকু বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে প্রবাস জীবনযাপন করছেন। দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার নেই। কারাবন্দি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করে তার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সফল করতে কাজ করব।’

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সেলিমা রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় দলের সাংগঠনিক কর্মকা- নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য করায় আমি খুবই খুশি।’ স্থায়ী কমিটির তালিকায় আপনাদের অবস্থান কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। শিগগিরই চিঠি দেওয়া হবে। চিঠি পেলে অবস্থান জানতে পারব।’