রংপুরের গংগাাচড়ায় জায়ের ছোড়া গরম পানিতে দগ্ধ সাবিনা বেগম (৩০) ৯দিন ধরে কাতরাচ্ছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।
ঘটনাটি ঘটেছে ১১ জুন সকালে গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষিটারী ইউনিয়নের পূর্ব মান্দ্রাইন গ্রামে। এ ঘটনায় মামলা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার লক্ষিটারী ইউনিয়নের পূর্ব মান্দ্রাইন গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সাবিনার মুখ ও বুকে গরম পানি ঢেলে দিয়ে পুড়িয়ে ঝলসে দেন জা আমেনা বেগম ওরফে ময়না বুড়ি।
গত ১১ জুন সকালে বাড়ি সংলগ্ন সাবিনা বেগমের স্বামী গোলাম রব্বানীর বসতভিটায় লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির ৭/৮টি গাছ দা দিয়ে কেটে ফেলছিলেন ময়না বুড়ি ও তার স্বামী তরিকমিয়া।
সাবিনা বেগম তাদের বাধা দিলে ময়না বুড়ি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে সাবিনা বেগমকে বাঁশ দিয়ে বুকে পিঠে, হাতে-পায়ে ও মাথায় আঘাত করে। সাবিনা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গেলে ময়না বুড়ি তার ঘরে গিয়ে চুলায় থাকা ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে মরিচের গুড়ো মিশিয়ে সাবিনা বেগমের মুখে ও বুকে ছুড়ে দেয়।
এতে সাবিনার মুখ ও বুক দগ্ধ হয়ে ঝলসে যায়। এ সময় ময়না বুড়ি ও তার স্বামী সাবিনা বেগমকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে। সাবিনার চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে।
এদিকে ময়না বুড়ি ও তার স্বামী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সাবিনার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাবিনার ভাই প্রতিবন্ধী সাইদ মিয়া বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ মামলা নিলেও আসামি গ্রেপ্তার বা আমার বোন সাবিনার কোনো খোঁজ নেয়নি পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রতিবন্ধী আমিই আমার পরিবারের বোঝা। তার উপর আমার সুস্থ বোনকে আমেনা বেগম ওরফে ময়না বুড়ি পরিকল্পিতভাবে মুখ ও বুকে গরম পানির সঙ্গে মরিচের গুড়ো মিশিয়ে ছুড়ে দিয়ে ঝলসে দিয়েছে তাকে এখন কে দেখবে। তার উপর তার ছোট ছোট ২ মেয়ে রিতু ও রিশা মনি তাদের কি হবে।”
রংপুর মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার মারুফুল ইসলাম জানান, সাবিনার শরীরের ২৮ ভাগ পুড়ে গেছে। তাকে সুস্থ করার আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। তবে তার মুখের অবস্থা আগের মতো ফেরানো যাবে না।
তদন্তকারী অফিসার আবু বক্কর ফকরুল আলম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করছি। আসামিকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে গংগাচড়া থানার ওসি সুশান্ত কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “অভিযোগ পেয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত এবং আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।