বিদ্যালয়ের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা স্থাপনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অথচ আইনের তোয়াক্কা না করেই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলা অলি আহমদ বীর বিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ইটভাটার ধুলো ও ধোঁয়ার মধ্যে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
ওই ইটভাটা বন্ধের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করলেও এ ব্যাপারে এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় অভিভাবকরা। বিদ্যালয়টি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইটভাটাটি চালু হয় ২০১০ সালে।
গত ১৯ জুন সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, বিদ্যালয় ঘেঁষে এসবিএন (শাহ আমানত ব্রিকস) নামে ইটভাটাটির কার্যক্রম চলছে। ইটভাটার মাটি আনা-নেওয়ার গাড়ির শব্দে এবং ইট পোড়ার ধোঁয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ত্রাহি অবস্থা। অথচ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ভাটা স্থাপন করা যাবে না। অথচ এ আইনের কোনো কিছুই মানা হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা সুলতানা শিফা ও মো. মিনহাজ বলে, ইটভাটার ধোঁয়া ও গাড়ির ধুলো এবং শব্দে আমরা অতিষ্ঠ। সম্প্রতি আমরা স্কুল গেটসংলগ্ন রাস্তায় ইটভাটাটি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছি।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মান্নান জানান, এভাবে স্কুল ঘেঁষে ইটভাটা তৈরি করায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে।
চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান বলেন, এভাবে স্কুলের প্রাচীর ঘেঁষে ইটভাটা স্থাপন করায় শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌছিফ আহমেদ জানান, ওই ইটভাটার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এক মাসের মধ্যে ইটভাটাটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. হানিফ বলেন, বিদ্যালয় ঘেঁষে ইটভাটা তৈরির ফলে ধোঁয়া ও ধুলার কারণে শিক্ষার্থীদের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ বিভিন্ন অ্যালার্জিজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
এসবিএন ইটভাটার মালিক নুরুল আলম জানান, ইটভাটাটি অতিসম্প্রতি তারা কিনে নিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন এটি বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে।