মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ওষুধ কেনার সময় মেয়াদ দেখে কেনার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ হাতে পেলে আমাদের জানান, কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত। এমন ওষুধ আপনাদের দেব না যেখানে জনগণ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ফার্মেসি রয়েছে। আমাদের যা জনবল আছে তা দিয়ে ইন্সপেকশন করি। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যদি বিক্রি হয়, তাহলে এ বিষয়ে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। ব্যবস্থা আরও জোরদার করব, আমরা সচেতন হয়েছি। ফার্মেসি কাউন্সিলকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। ওষুধ শিল্প সমিতিকে জানিয়েছি তাদের দায়িত্ব মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো সময়মতো ফেরত নেওয়ার জন্য।
ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ হাতে পায় ওষুধ প্রশাসনকে অবহিত করবেন, আমাদের অবহিত করবেন, আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও অবহিত করবেন। কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নার্সিং কাউন্সিলে কয়েক শিক্ষার্থীর অবৈধভাবে ভর্তির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে খতিয়ে দেখব। যদি অনিয়ম হয় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছয় মাসে ৩৭০ মামলা
সংবাদ সম্মেলনে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ওই ওষুধ ফার্মেসিতে আলাদা জায়গায় রাখা হয়। লেখা থাকে ‘বিক্রির জন্য নহে’। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অপরাধে গত ছয় মাসে ৩৭০টি মামলা, ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা এবং কয়েকজনকে জেল দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপনা নিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
মহাপরিচালক বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স। দোকানের শেলফে যেন না থাকে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল, ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিচ্ছি।