কক্সবাজারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এদিকে উখিয়ায় একদল রোহিঙ্গার বিক্ষোভের মুখে পড়ার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাদের আশ্বস্ত করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। এটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শর্ত। ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদও জানান তিনি। (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশ প্রধান স্টিফেন করলিস, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালামসহ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্টিফেন করলিস বলেন, ‘বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আমরা রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে ক্যাম্পে এসেছি। আমরা রোহিঙ্গাদের পাশে আছি ও থাকব।’

এর আগে সকালে ক্যাম্পে পৌঁছার পর রোহিঙ্গা শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। পরে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রায় যোগ দেন তিনি। শোভাযাত্রাটি মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে আসার পথে একদল রোহিঙ্গা এটি আটকে দেয়। এ সময় তারা ‘আমরা শরণার্থী জীবনযাপন করতে চাই না, আমরা স্বদেশে ফিরতে চাই’ সেøাগান দেয়। প্রায় আধঘণ্টা পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের শান্ত করেন এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত কুতুপালং রেজি. ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাদের আশ্বস্ত করেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কুতুপালং রেজি. ক্যাম্পের রোহিঙ্গা প্রতিনিধি মো. ইউনুচ আরমান বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদের বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের আমেরিকার সরকার ৭ বিলিয়ন (৭০০ কোটি) ডলার সহযোগিতা দিয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে আমি বলেছি, আমাদের সহযোগিতার দরকার নেই। রোহিঙ্গাদের জন্য দেওয়া মার্কিন ডলার বিভিন্ন এনজিও নানাভাবে খরচ করছে। সব সাহায্য রোহিঙ্গাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘আমি আরও বলেছি, এই মুহূর্তে দরকার চীন সরকারের মাধ্যমে মিয়ানমারকে চাপ দিয়ে সম্মানের সঙ্গে আমাদের ফেরত পাঠানো। বাংলাদেশ সরকার আমাদের জায়গা দেওয়ায় আমরা আজীবন কৃতজ্ঞ। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেছি মার্কিন সরকারের কাছে। তিনি (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) আমাদের আশ্বস্ত করেছেন এবং রোহিঙ্গাদের পাশের থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।’