পাবজি বন্ধ করা হোক। এমন দাবি অহরহরই শোনা যায়। কিন্তু সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে পৃথিবীজুড়ে নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনে গেঁড়ে বসেছে এই অনলাইন গেমটি। রমরমায় বাড়ছে এর জনপ্রিয়তাও। এমনকি গেমটি খেলে মোটা অঙ্কের অর্থও জিতে যাচ্ছেন প্লেয়াররা। ফলে আসক্তি আরও বাড়ছে। কিন্তু এরই মধ্যে ফের বিপাকে পড়েছে পাবজি। এবার গেমটির বিরুদ্ধে জারি হলো ফতোয়া। জনপ্রিয় এই অনলাইনের বিরুদ্ধে এবার ইসলামকে অপমান করার অভিযোগ। ইন্দোনেশিয়ার একটি মুসলিম গ্রুপ এমন অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, এই গেম শুধু ইসলাম ধর্মকে আঘাতই করেনি, খেলোয়াড়দের মনে হিংসার সঞ্চারও করেছে প্রবলভাবে।
হিংসা ছড়ানো এবং খেলোয়াড়দের আগ্রাসী করে তোলার অভিযোগে ভারতের গুজরাটে নিষিদ্ধ হয়েছে এই গেম। এ ছাড়া ইরাক, নেপালের মতো দেশগুলোতেও পাবজি খেলা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার এই অভিযোগ যে আরও একবার পাবজিকে সংকটে ফেলল, তা বলাই বাহুল্য।
অনলাইনের এই গেম অনেকে মিলেই সাধারণত খেলে থাকেন। একটি অচেনা যুদ্ধক্ষেত্রে প্লেয়ারদের নামিয়ে দেওয়া হয়। তারপর বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করে যুদ্ধে জিততে হয়। জিতলেই পুরস্কার হিসেবে মেলে ‘চিকেন ডিনার’। গেমটি এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়েছে তরুণ প্রজন্মের কাছে। লাগাতার ঘাড় গুঁজে এই গেম খেলে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছিল কর্ণাটকের এক তরুণ। আবার মধ্যপ্রদেশের ১৬ বছরের কিশোর খেলার চাপ সহ্য না করতে পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
গত বুধবার ইন্দোনেশিয়ার উলেমা কাউন্সিলের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের অনুরোধ করা হয়, তারা যেন আর পাবজি না খেলে। পাশাপাশি সরকারকে এই গেম নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘চটইএ বা এ ধরনের খেলা হারাম। কারণ এগুলো মানুষের মধ্যে হিংসাত্মক প্রবৃত্তি জাগিয়ে তোলে। সেই সঙ্গে এই গেম ইসলামকে অপমানও করেছে। তাই অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা উচিত পাবজি।’