আকস্মিক বন্যার ক্ষতিতে বেহাল তিস্তা তীরবর্তীরা

লালমনিরহাটে আকস্মিক বন্যার ক্ষতিতে তিস্তা তীরবর্তী চার উপজেলার ২০ গ্রামের অন্তত ২০ হাজার কৃষকের এখন টালমাটাল অবস্থা। মাত্র কয়েক দিন আগে ধানের দামে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অর্থকরী ও উদ্যান ফসল হঠাৎ বন্যায় ভেসে যাওয়ায় তারা এখন দুই চোখে অন্ধকার দেখছেন। গত বুধবার গভীর রাতে তিস্তায় আকস্মিক পানি বাড়লে পানিবন্দি হয়ে পড়ে জেলার অন্তত ২০ হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্নাঞ্চলের আবাদ।

মাত্র এক দিনের স্থায়ী বন্যায় ভেসে গেছে ক্ষেত থেকে তোলা শুকনো বাদাম, ভুট্টা। কাদাপানিতে তলিয়ে গেছে পাট, বোরো বীজতলা, কাঁচামরিচ ও নানা রকমের সবজি। পরদিন বৃহস্পতিবার পানি কমতে শুরু করলে বেরিয়ে আসে বন্যার ক্ষতচিহ্ন।

জানা যায়, ভারতের উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিলে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল আকস্মিকভাবে প্লাবিত হয়। নদী তীরবর্তী এলাকায় ব্যারাজের জলকপাট খুলে দেওয়ার তথ্য আগাম জানিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে নদীপারের মানুষ। এতে করে তারা ক্ষতি কমাতে অন্তত প্রস্তুতি নিতে পারবে বলে দাবি করেছে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, ব্যারাজ পয়েন্টে পানি ছাড়ার বিষয়ে তারাই কোনো আগাম সংবাদ পাননি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, কৃষকদের ক্ষতি কাটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।