ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রতিবন্ধী বোনকে ধর্ষণের ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করার পর অভিযুক্তদের হুমকির মুখে নির্যাতিতার ভাই এলাকায় ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ধর্ষণ মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে অভিযুক্তরা উল্টো মিথ্যা ডাকাতির মামলা দিয়ে গ্রামছাড়া করার চেষ্টা করছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন নির্যাতিতার ভাই। শুধু তাই নয়, পুলিশ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার না করে এখন ‘মিথ্যা ডাকাতি মামলায়’ নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের হয়রানির চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। নির্যাতিতা ওই প্রতিবন্ধী তরুণীর ভাই এই হয়রানির কথা জানিয়ে সম্প্রতি ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন।
ভুক্তভোগী মীর্জাপুর ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের ওই তরুণ জানান, গত ৩১ মে তার প্রতিবন্ধী বোন কাপড় ধুতে কুমার নদে যায়। তখন একই গ্রামের সব্দুল মোল্লার ছেলে রাব্বুল তার বোনের মুখ চেপে ধরে পাশের পাটক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। রাব্বুল তার হাতে থাকা ধারালো হাঁসুয়া দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য তরুণীকে ভয় দেখায়। পরে পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনা জানতে পারে। পরিবারের সিদ্ধান্তে নির্যাতিতা তরুণীর ভাই বাদী হয়ে পরদিন ১ জুন শৈলকুপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলা করার পর থেকেই রাব্বুলের পরিবার এবং স্থানীয় মাতবররা তা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু তরুণীর পরিবার রাজি না হওয়ায় তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৩ জুন রাতে রাব্বুলের পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই নিজেদের হাত কেটে এবং ঘরের বেড়া ভেঙে ধর্ষণ মামলার বাদী ও সাক্ষীদের নামে থানায় মিথ্যা ডাকাতির মামলা করে। এ ছাড়া অভিযুক্তরা তরুণীর পরিবার এবং ধর্ষণ মামলার সাক্ষীদের প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলেও দাবি করেন নির্যাতিতা তরুণীর ভাই। এ পরিস্থিতিতে তিনি ভয়ে গ্রামে ফিরতে পারছেন না বলে জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শৈলকুপা থানার ওসি বজলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডাকাতির অভিযোগ থানায় জমা দেওয়া হলেও তা আমরা এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করিনি। ওই অভিযোগের এখনো তদন্ত চলছে। আর প্রতিবন্ধী ওই তরুণীর পরিবারকে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ সত্য নয়। কারণ ঘটনার পর থেকেই পুলিশ নিয়মিত ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে খোঁজখবর রাখছে।’