সুন্দরবনের কাছে ‘রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র’ নির্মাণের কারণে এরই মধ্যে ইউনেস্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বঐতিহ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির হুমকিতে পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। সরকারের দাবি, রামপাল প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে, ফলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। তারপরও সম্প্রতি জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। এ অবস্থার মধ্যেই সুন্দরবনের কাছে বেসরকারি কোম্পানি ‘পাওয়ারপ্যাক-মুতিয়ারা’-কে ১০০ মেগাওয়াটের ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ‘ইআইএ’ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর দেখতে পায়, প্রকল্পটি সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনের প্রান্তসীমা থেকে মাত্র সাড়ে চার কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। এখানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে সুন্দরবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। আর পরিবেশ অধিদপ্তর মনে করছে এ প্রকল্পের ছাড়পত্র দিতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন। দেশব্যাপী প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সত্ত্বেও রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ অব্যাহত রেখেই সুন্দরবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে; এরপরও সুন্দরবনের আরও কাছে আর কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পাঁয়তারা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ওয়ারিস হাফিজ, রামপুরা, ঢাকা