স্বপদেই ইফা ডিজি

সামীম আফজাল নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নানা নাটকীয়তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের পরও স্বপদেই আছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজাল। গতকাল শনিবার সচিবালয়ে প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড অব গভর্নরসের সভা শেষে এ বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ প্রথমে বলেন, ‘নো কমেন্ট’। এরপর বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তাকে নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ (গতকাল) বোর্ড অব গভর্নরসের নিয়মিত বৈঠক ছিল। তবে বৈঠকে ইফা ডিজির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ডিজি যেহেতু তার পদে বহাল আছেন, সেখানে নতুন করে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন আসে না। তিনি তার পদে বহাল ছিলেন, এখনো আছেন।’

সামীম আফজালের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের ভার তার ওপরই ন্যস্ত করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন আমাদেরই প্রতিষ্ঠান, সেখানে বর্তমানে যে অসম্মানজনক কাজ হচ্ছে সেটা আমরা চাই না। সেজন্য ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালকে বলেছি, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আপনি যেটা ভালো মনে করেন সেই সিদ্ধান্ত নেবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিজির বিষয়ে যারা আন্দোলন করছে আমরা তাদেরও বলেছি যে এখানে কোনো গণ্ডগোল করা যাবে না।’

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইফা ডিজি হিসেবে নিয়োগ পান সামীম মোহাম্মদ আফজাল। গত ১০ জুন ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে ইফা ডিজিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে কেন অবহিত করা হবে না, তা সাত কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়। ইফার মসজিদ মার্কেট বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদারকে সম্প্রতি সাময়িক বরখাস্ত করেন ডিজি সামীম। এ সংক্রান্ত আদেশকে কেন্দ্র করে এ শোকজের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর ইফায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। ডিজি সামীমের পদত্যাগ দাবিতে গত সপ্তাহে চার দিন ইফা কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সামীম মোহাম্মদ আফজালকে শিগগিরই ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে, চলতি সপ্তাহে তার স্থলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিবকে আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হতে পারেÑ এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা।

এর আগে ইফার বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য মিছবাহুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নীতিনির্ধারণ করে গভর্নরস বোর্ড। এই প্রতিষ্ঠানটির কাজ হচ্ছে বোর্ড অব গভর্নরসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা। শনিবারের বোর্ডসভায় বিদ্যমান সংকট নিরসনের জন্য আলোচনা হবে। সে মোতাবেক যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটিই কার্যকর করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন গত ১৫ জুন (শনিবার) পদত্যাগপত্র দিতে সামীম মোহাম্মদ আফজাল ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলামকে অফিসে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। পদত্যাগপত্র টাইপও হয়েছিল। শুধু স্বাক্ষর করে জমা দেওয়াই ছিল বাকি। তার আগে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশত ফাইল গাড়িতে করে দপ্তর থেকে সরানোর চেষ্টা করেন ডিজির আস্থাভাজন এক পরিচালক। ঘটনাটি টের পেয়ে এতে বাধা দেন ইফার সচিব। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি ফাইলগুলো জব্দ করে নিজ জিম্মায় নেন। এ ঘটনায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বেঁকে বসেন ডিজি সামীম।

গতকালের বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বোর্ডসভায় দীর্ঘক্ষণ সামীম মোহাম্মদ আফজালকে নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। তবে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া বা পদত্যাগ করার বিষয়ে বৈঠক থেকে কোনো জোরালো বক্তব্য আসেনি। এ কারণে বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সামীম মোহাম্মদ আফজালের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়। গতকাল ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের সভা থেকে ইফা ডিজি সামীমের পদত্যাগের কথা থাকলেও তা না হওয়ায় আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বপদেই থাকছেন তিনি।