শিল্পী স্বার্থরক্ষায় কাজ করবে অভিনয় শিল্পী সংঘ

গত ২১ জুন নির্বাচনের মাধ্যমে ‘অভিনয় শিল্পী সংঘ’র নতুন সভাপতি হয়েছেন শহীদুজ্জামান সেলিম। সেখানে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আহসান হাবীব নাসিম। আর সহ-সভাপতি পদে জিতেছেন তানিয়া আহমেদ। গত ২২ জুন নবনির্বাচিত কমিটি নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে তারা ঠিক করেন কীভাবে কাজ করবে এই কমিটি। সে-সবের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন এই তিন নেতা। 

শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘সংগঠনকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে কিছু দাবি আদায় করা, যেমন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক, অভিনয় পেশার মানোন্নয়ন, সিনিয়র শিল্পীদের সিআইপির স্বীকৃতি, চিকিৎসাক্ষেত্রে অসচ্ছল শিল্পীদের সরকারি সহযোগিতা ইত্যাদি। তা ছাড়া শিল্পীদের মধ্যে দূরত্ব ও কোন্দল দূর করার কথাও দিয়েছিলাম।’

শোবিজে ছয় শতাধিক ভোটারের এত বড় সংগঠন আর নেই। সবার চাওয়া পূরণ করা কি সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সত্যিই, আলাদা করে সবার চাওয়া পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে সবার চাওয়া এক-পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ। আগে এগুলো পূরণ করতে চাই। এরপর না হয় যুক্তিসংগত চাওয়া থাকলে ব্যক্তি ধরে ধরে পূরণের চেষ্টা করব।’

নির্বাচনের আগের দিন বেশ জটিলতা তৈরি হয়েছে। আদালতেরও নির্দেশ ছিল। এ অবস্থায় নির্বাচন করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সহ-সভাপতি তানিয়া আহমেদ বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, আমরা ফেইসবুকে দেখেছি এমন খবর। নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা...। কিন্তু আমাদের কাছে এ বিষয়ে আদালতের কোনো চিঠি আসেনি। নির্বাচন কমিশন ও সংঘের অফিসেও আসেনি। চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনারের নির্বাচন প্রক্রিয়া থামানোর কোনো কারণই ছিল না। আমাদের সদস্যরা উন্মুখ হয়েছিলেন ভোট দেওয়ার জন্য। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও রীতিমতো উৎসবে মেতেছিলেন আমাদের ভোটাররা। মোট ৫১৪টি ভোট পড়েছে। অনেকে ব্যস্ততার কারণে ভোট দিতে আসতে পারেননি বলে ফোনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অনেকে আবার দেশের বাইরে ছিলেন। তারা ভোট দিতে পারেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু বিষয় আছে যা বলতে চাই। প্রথমত, আমরা শিল্পীরা আবেগি হলেও এখন থেকে শিল্পীর স্বার্থরক্ষায় আমি স্বার্থপর হয়ে কাজ করব। দ্বিতীয়ত, আমি গত বছর কর দিবসে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাব করেছিলাম। তা হলো বয়স্ক শিল্পীদের ওপর থেকে কর তুলে দেওয়া। এটা নিয়ে সুবর্ণা মুস্তাফাও সংসদে কথা বলেছেন। আশা করছিÑ এ বিষয়ে আমরা ভালো একটি খবর পাব। আর নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে দেখেছি, আমরা যারা অভিনয়ে ব্যস্ত বা তারকা ইমেজ রয়েছে তাদের অনেক ভোটার এড়িয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে একটা ভুল ধারণা প্রচার করা হয়েছে। তা হলোÑ তারকারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের কোনো কাজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু যারা খেয়াল করেছেন, তারা জানেন যে বিগত দুই বছরে আমরা কত কষ্ট করেছি শিল্পীদের জন্য। আমি আশা করি পরবর্তী নির্বাচনে সবার মধ্যে এই ভুল ধারণা ভেঙে যাবে।’

সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নাসিম বলেন, ‘আমাদের পেশাদারির সংকট নিরসনে কিছু কাজ শুরু হয়েছিল এবং কিছু কাজ করেছি। সেগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখব। এ পেশা সমন্বিত শিল্প। এখানে পরিচালক, প্রযোজক, কলাকুশলী প্রতিটি বিভাগের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই অভিনয়টা চালিয়ে যেতে হয়। সুতরাং এসব সংগঠনের সঙ্গে আরও বেশি একাত্ম হয়ে সমন্বিতভাবে সংকট নিরসনের জন্য প্রচেষ্টা চালাব। পুরনো কাজ পর্যালোচনা করব, সেই অনুযায়ী সামনের দিনগুলোর পরিকল্পনা করব। এরপর সদস্যদের মতামত নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করব।’