জীবন নিয়ে খেলার অধিকার বিএসটিআইকে কে দিয়েছে

বিএসটিআইর (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত কতটি প্রতিষ্ঠান পাস্তুরিত দুধ বিক্রি করে তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে আগামী ১৫ জুলাই তা আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেয়। 

এ ছাড়া বাজারে থাকা বিভিন্ন দুধের মান নিয়ে বিএসটিআইয়ের ভূমিকা ও তাদের স্ববিরোধী বক্তব্যে গতকাল উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলে, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার তাদের কে দিয়েছে?’

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। বিএসটিআইয়ের পক্ষে সরকার এম আর হাসান মামুন, নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম ফরিদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।

গতকাল শুনানিতে বিএসটিআইয়ের আইনজীবী ও প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক মো. নূরুল ইসলাম আদালতকে জানান, পাস্তুরিত দুধ ও দইয়ের ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআই লাইসেন্স (নিবন্ধন) দিয়েছে। এ সংক্রান্ত তালিকা উপস্থাপন করে ওই ১৮টির মান দেখা ছাড়া এর বাইরে দুধ ও দই কারা বাজারজাত করছে সেটি দেখার দায়িত্ব বিএসটিআইয়ের দায়িত্ব নয় বলেও জানান তারা।

বিএসটিআইয়ের আইনজীবী ও কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বলে, ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত যেগুলো আছে সেগুলো ছাড়াও লাইসেন্স নেই যেগুলোর সেটিও দেখার দায়িত্ব বিএসটিআইয়ের। কিন্তু আপনারা বলছেন এই দায়িত্ব আপনাদের নয়।’

বিএসটিআইয়ের আইনজীবী সরকার এম আর হাসান মামুন তাদের মান পরীক্ষার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আদালতকে জানান, ঢাকায় সুপার শপগুলোতে এই ১৮টি কোম্পানির দুধ ও দই ছাড়া অনিবন্ধিত কোনো কোম্পানির দুধ বা দই বিক্রি হয় না। আদালত এ সময় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের (এনএফএসএল) প্রধান ডা. শাহলীনা ফেরদৌসীর প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, গুলশানের অভিজাত দোকানগুলোতে লাইসেন্সবিহীন কোম্পানির দুধ বিক্রির কথা উল্লেখ রয়েছে। তাদের

(বিএসটিআই) বক্তব্য সঠিক নয়।

বিএসটিআইয়ের আইনজীবী ও কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে উষ্মা ও বিস্ময় প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলে, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে! লাইসেন্স নেই অথচ দুধ বিক্রি করছে, এটি দেখার দায়িত্ব কার?’

বিএসটিআইয়ের আইনজীবী জানান, এটি দেখবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও দুদকের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, বিএসটিআইকে এ বিষয়ে আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তারা দায়িত্ব এড়াতে চাইছে। অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

এ পর্যায়ে বিএসটিআইয়ের প্রতিনিধিরা আদালতের কাছে অনিবন্ধিত কোম্পানির দুধ ও দই ধ্বংসের আদেশ চান। তখন আদালত উষ্মা প্রকাশ করে বলে, ‘আপনারা স্ববিরোধী কথা বলছেন। আগে বলেছেন, এগুলো দেখার দায়িত্ব আপনাদের নয়, এখন বলছেন ধ্বংস করবেন। আগে তালিকা করুন। এরপর আমরা দেখব।’ আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত তরল দুধ কোম্পানির তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেয়।