২ জুলাইয়ের মধ্যে ধ্বংস করা হবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ

দেশের বিভিন্ন ফার্মেসিতে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে ধ্বংস করবে ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো। আদালতের নির্দেশের পর গতকাল রবিবার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে  অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংগ্রহ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে ধ্বংস করবে। ওষুধ ধ্বংস করার পর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে তা রিপোর্ট আকারে জানাতে হবে। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সব স্টেকহোল্ডারকে পাঠানো শুরু হয়েছে।

গতকালের বৈঠকে ওষুধ শিল্প সমিতি, বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি, ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি, আমদানিকারক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ র‌্যাবের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান।

এ ব্যাপারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈঠকে ওষুধ কোম্পানিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করতে রাজি হয়েছে। বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে ওষুধগুলো কোম্পানির লোকজনই সংগ্রহ করবে এবং নিজ দায়িত্বে তা ধ্বংস করবে। এ জন্য কোম্পানিগুলোকে ছকসংবলিত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই ছকে ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির নাম, ওষুধের বাণিজ্যিক ও জেনেরিক নাম, ব্যাচ নম্বর, মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ, পরিমাণ এবং ওষুধ ধ্বংসের তারিখ উল্লেখ করতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ও ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির মালিক এস এম শফিউজ্জামান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফার্মেসি থেকে সব মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরিয়ে নেওয়া হবে। পরে সেগুলো ধ্বংস করা হবে। যে ইনভয়েসের মাধ্যমে ফার্মেসিগুলো ওষুধ নিয়েছিল, এর মধ্যে যেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন সংগ্রহ করবে। পরে নিজ নিজ দায়িত্বে তা ধ্বংস করে ফেলবে। এ ব্যাপারে আমরা সবাই একমত হয়েছি। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসের পর আমরা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন দেব।

এর আগে ১৮ জুন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের ওষুধ বিক্রিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং মজুদ ও বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে বিবাদীদের ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।