ধর্ষণের পর চিৎকার করায় শ্যালিকা তামান্না আক্তারকে (১৫) খুন করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচিত ধর্ষণের পর হত্যামামলার আসামি নাঈম ইসলাম (২৭)। গতকাল রবিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জবানবন্দি গ্রহণ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার-ই আলম। জবানবন্দি প্রদানকালে নাঈম বেশ কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। এ সময় সে ভুল করেছে বলে আদালতকে জানায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার আমিনপুর গ্রাম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার বড় বোনের বাড়ি শালগাঁও গ্রামে বেড়াতে আসে। গত ১৯ জুন স্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে শ্যালিকা তামান্নাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নাঈম। গত শুক্রবার রাতে অষ্টগ্রাম থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। গত শনিবার গোসাইপুর গ্রাম থেকে নাঈমের বাবা বসু মিয়ার (৫৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অপমান সইতে না পেরে বসু মিয়া আত্মহত্যা করেন বলে জানায় পরিবারের সদস্যরা।
গতকাল আদালতকে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাঈম বলে, ‘আমি আমার বাবা বসু মিয়ার সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সড়ক বাজারে নৈশপ্রহরীর কাজ করি। সপ্তাহে এক দিন বাড়িতে রাতে স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে থাকার সুযোগ পাই। গত বুধবার বিকেলে স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। রাতে দোচালা টিনের ঘরের এক কক্ষে স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে শুয়ে পড়ি। পর্দা দেওয়া পাশের কক্ষে ঘুমাচ্ছিল বাড়িতে বেড়াতে আসা শ্যালিকা তামান্না আক্তার। রাত ১টার দিকে তামান্নাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে ব্যাপকভাবে বাধা দিয়েও শেষে পরাস্ত হয়। ধর্ষণ শেষে উঠে যাওয়ার সময় তামান্না চিৎকার শুরু করলে গলায় শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করি। সকালে বাড়ির লোকজনকে তামান্না ঘটনা বলে দিতে পারে বলে আমার মধ্যে ভয় কাজ করছিল। শ্যালিকাকে হত্যা করে পুনরায় স্ত্রীর পাশে এসে শুয়ে পড়ি।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বাবু জানান, নাঈম ইসলাম পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মতোই আদালতে স্বীকার করেছে।