মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল
থাকছে। ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর গতকাল রবিবার কোনো আদেশ দেয়নি (নো অর্ডার) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আলতাফ হোসেন ও ওমর সাদাত। পরে আইনজীবী ওমর সাদাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ না দেওয়ায় হাইকোর্টের ওই রায়টি বহাল রইল।’
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত ১৯ মে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির বয়স হিসেবে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সরকারের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ও বাতিল বলে ঘোষণা করে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ২(১১) ধারা অনুযায়ী সরকার কর্র্তৃক ওই বয়সসীমা নির্ধারণের বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে আদালত।
মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণে সরকারের ওই বিধানকে ভ্রান্ত উল্লেখ করে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ‘এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। পৃথিবীর কোথাও এটি হয় না।’ আদালত আরও বলে, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন সেখানে ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকলকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেখানে বয়সের কোনো কথা উল্লেখ ছিল না।’ এ ছাড়া রিটকারী যে ১৫ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা স্থগিত করা হয়েছিল তাদের ভাতা চালু করাসহ বকেয়া ভাতা পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয় রায়ে।
২০১৬ সালে সরকারি এক গেজেটে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা নির্ধারণে ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৩ বছর। এরপর ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি পরিপত্রের মাধ্যমে ওই গেজেট সংশোধন করে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স হতে হবে সাড়ে ১২ বছর। এ দুটি গেজেট ও মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ২(১১) ধারা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের বিভিন্ন সময়ে ১৫ মুক্তিযোদ্ধা রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই এক আদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স সাড়ে ১২ বছর নির্ধারণ কেন আইনগত কর্র্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।