ভোট পড়েছে ৩৪.৫৫%

ফখরুলের আসনে জয়ী বিএনপির সিরাজ

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম টি জামান নিকেতাকে ৫৭ হাজার ৪৪৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। ধানের শীষ প্রতীকে সিরাজ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট। নৌকায় মার্কায় টি জামান নিকেতা পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৯৭ ভোট। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব হোসেন শাহ এই উপনির্বাচনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ জন। এ নির্বাচনে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট পড়েছে ৩৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত এ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; তিনি প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে মহাজোটের প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমরকে হারিয়ে বিজয়ী হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না নেওয়ায় আসনটি গত ৩০ এপ্রিল শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে গত ৮ মে এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সাল থেকে বগুড়া-৬ আসনে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দুবার উপনির্বাচনেও আসনটি বিএনপির হাতেই থাকে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে চলে যায়। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আসনটি পেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী।

এ উপনির্বাচনে এই আসনে এবারই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হয়। ১৪১টি কেন্দ্রে গতকাল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে একটানা ভোটগ্রহণ। বগুড়া পৌরসভার ২০টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বগুড়া-৬ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ জন।

এ উপনির্বাচনের বেসরকারি ফলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর লাঙ্গল প্রতীকে ৭ হাজার ২৭১ ভোট, মুসলিম লীগের রফিকুল ইসলাম হারিকেন প্রতীকে ৫৫৪ ভোট, বাংলাদেশের কংগ্রেসের মনসুর রহমান ডাব প্রতীকে ৪৫৬ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজ মণ্ডল আপেল প্রতীকে ২ হাজার ৯২০ ভোট পেয়েছেন। অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু গত ২০ জুন সংবাদ সম্মেলন করে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও তার ট্রাক প্রতীকে ভোট পড়েছে ৬৩০টি।

ভোটার উপস্থিতি নগণ্য : ইভিএম দেখতে উৎসুক ভোটাররা কেন্দ্রে গেলেও গতকাল অধিকাংশ ভোটারই কেন্দ্রমুখী হননি। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেলে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ৩৫-৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

সরেজমিনে গতকাল সকাল থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে কম হলেও গ্রামাঞ্চলের কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। সকাল ১০টায় শহরের করনেশন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ২ হাজার ৪৪ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৭৭ জন ভোট দেন। সোয়া ১০টা পর্যন্ত শহরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল ও কলেজের মহিলা কেন্দ্রে ২ হাজার ৭৪০ জনের মধ্যে ভোট দেন ৭৪ জন। সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার নুনগোলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৮০৮ ভোটারের মধ্যে ২০৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। একই সময়ে শহরতলির মাটিডালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোটারদের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি।

নুনগোলা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা বৃদ্ধ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মিশিনোত ভোট দেওয়া ক্যাংকা তা দ্যাকার জন্ন্যি ভোট দিবের আসিচি, দ্যাকনো সিংকা ঝামেলা নাই।’ ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘লিত্যি তোমরা ভোট লিবের চাবা, আর মানষে কাম-কাজ ফ্যালে দিয়ে তোমাকোরোক ভোট দিবের আসপি ক্যা বা?’

মাটিডালী কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে পৌর কাউন্সিলর মেসবাউল হামিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকালের দিকে মানুষ একটু কমই, বেলা বাড়লে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে।’

ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী টি জামান নিকেতা বলেন, ‘বিগত সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের তুলনায় এবার উপনির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। তবে কিছুদিন আগেই মানুষ সংসদ নির্বাচনের ভোট প্রদান করেছেন, এরপর আবারও ভোট হচ্ছে একই আসনে এতে অনেক ভোটারই উৎসাহ হারিয়েছেন।’ ধানের শীষের প্রার্থী জি এম সিরাজ বলেন, ‘শহরে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও গ্রামের পরিস্থিতি উল্টো। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসছেন।’