ছোট বেলা থেকে বাবার চাকরির সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। স্কুলজীবন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ধাপে সফলতার কোথাও কমতি ছিল না তার। তবে পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আর দশটি পেশা থেকে একদমই আলাদা একটি কাজকে বেছে নিলেন তিনি। রান্না ভালোবেসে, রান্নাকেই বেছে নিয়েছেন ক্যারিয়ার হিসাবে। তিনি হলেন বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা রন্ধনশিল্পী আফরোজা নাজনীন সুমি।
যমুনা টেলিভিশনের ‘লাইভ কিচেন’ সরাসরি রান্নার অনুষ্ঠান দিয়ে টেলিভিশন মিডিয়াতে যাত্রা শুরু হয় তার। “কুইক রেসিপি” অনুষ্ঠানে ভিন্ন ধরনের আর ঝটপট রান্নার রেসিপির জন্য দ্রুত সাড়া পান তিনি। যমুনা টেলিভিশন ছাড়াও তিনি এনটিভি, বিটিভি ,বাংলা ভিশন, মাছরাঙায়, জিটিভি, চ্যানেল নাইন, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর, ডিবিসি নিঊজ, সময় টিভি, এটিএন বাংলায় অনুষ্ঠান করছেন। রান্নার পাশাপাশি এটিএন বাংলায় “বাহারি রান্না” অনুষ্ঠানটি নিয়মিত উপস্থাপনাও করছেন। রবিবার মুখোমুখি আড্ডায় এ গুণী নারীর জীবনের কিছুটা কার্যপরিধি জানা যায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবির হোসেন।
দেশ রূপান্তর: কেমন আছেন?
সুমি: জ্বি ভালো।
দেশ রূপান্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস বিভাগে লেখাপড়া করেছেন তবে পেশা হিসাবে রন্ধনশিল্পকে কেন বেছে নিলেন?
সুমি: আসলে এই পেশায় হঠাৎ করেই আসা। যদি এইভাবে বলি তাহলে, সবই বলে থাকে আমি খুব ভালো রান্না করি। আর আমার এ ভালো রান্না করার কথা শুনতে শুনতেই রান্নাটাকেই পেশা হিসাবে বেছে নেওয়া।
দেশ রূপান্তর: এ পেশা নিয়ে আপনার ভাবনা কি?
সুমি: আমি যে পেশায় আছি আমি মনে করি এই পেশা থেকে অনেক কিছু করা সম্ভব। আমি এইচআর নিয়ে এম.বি.এ করেও এই পেশায় এসেছি। এই পেশায় নিজের সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগানোর একটা সুযোগ থাকে। হোটেল রেস্তোরাঁতে কাজের পাশাপাশি কেউ চাইলে ক্যাটারিং ব্যবসাও করতে পারেন। আমি ব্যবসাও করছি।
দেশ রূপান্তর: এই পেশার অর্জন কি?
সুমি: এই অল্প সময়ে অনেক সম্মান পেয়েছি। যদি উল্লেখ করে বলি তাহলে বেশ কিছু অর্জনের কথা উঠে আসবে, যেমন- ডিসিআরইউ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮, এজেএফবি স্টার অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, রেডিও স্বদেশ সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, গোল্ডেন পেন অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, ইনডেক্স মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, নব প্রজন্মের সেরা রন্ধনশিল্পী অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ অর্জন করেছি। এছাড়া- কলকাতায় ‘সৃজন সম্মান-২০১৮’ এবং ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব-২০১৮’ সম্মাননা লাভ করেছি। কলকাতায় কুকিং কম্পিটিশন কুলিনারি ডিভা ২০১৮-তে বিচারক হিসেবে কাজ করেছি।
দেশ রূপান্তর: আপনার উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ করা কিছু অনুষ্ঠানের কথা জানতে চাই?
সুমি: “ড্যান কেক ডেজার্ট জিনিয়াস-২০১৮” এর অন্যতম প্রধান বিচারক হিসাবে কাজ করেছি। “সেরা রাঁধুনি ১৪২৪” এ গ্রুমিং ইনস্ট্রাক্টর হিসাবে এবং “রূপচাঁদা-দি ডেইলি স্টার সুপার শেফ ২০১৮-১৯” প্রতিযোগিতায় ঢাকা জোন এর বিচারক হিসাবে এবং স্টুডিও পর্বে অতিথি বিচারক হিসাবে কাজ করেছি। “নিউট্রিশন অলিম্পিয়াড -২০১৮” এ ফেসিলেটর হিসাবে এবং শেফ ট্রেইনার হিসাবে সিলেটের “শেফ কনফারেন্স ২০১৮” এ অংশ গ্রহণ করেছি।
দেশ রূপান্তর: এ পেশায় আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কি?
সুমি: আমার কাছে আমার কাজ সবই গুরুত্বপূর্ণ। হ্যা কাজ করছি বেশ কিছু টিভি চ্যানেলে এবং পত্রিকায়। যেমন: এটিএন বাংলায় বাহারি রান্না, নাগরিক টিভিতে, যমুনা টিভিতে ঝটপট রান্না, প্রথম আলোতে আমার রেগুলার রেসিপি যাচ্ছে, কলকাতার আনন্দ বাজার, সংবাদ প্রতিদিনে রেসিপি যাচ্ছে, রেসিপি যাচ্ছে কলকাতার ম্যাগাজিন সানন্দা, হ্যাংলা হেঁসেল ইত্যাদি বেশ কিছু পত্রিকায়। নেপালে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে 'হসপিটালিটি ফুড অ্যান্ড ওয়াইন' ম্যাগাজিনে নিয়মিত ছাপা হচ্ছে আমার রেসিপি।
দেশ রূপান্তর: এখন কি নিয়ে ব্যস্ত?
সুমি: অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, রেসিপি প্রদর্শনী, রান্না বিষয়ক লেখা নিয়ে ব্যস্ত আছি।
দেশ রূপান্তর: এ পেশায় আপনার অনুপ্রেরণা কারা?
সুমি: অনুপ্রেরণা মা। মা খুব ভালো রান্না করেন। তাকে দেখেই রান্নার প্রতি আগ্রহ জেগেছে। কারণ আমি যখন বাইরে বা বিদেশে কাজ করতে যেতাম বা এখনো যাই... তখন মায়ের সাহায্য ছাড়া কখনো সম্ভব হতো না । মায়ের এই সাহায্য আমার এ পেশায় এগিয়ে যেতে আরও বেশি অবদান রেখেছে।
দেশ রূপান্তর: সামনে নিজকে কোথায় দেখতে চান?
সুমি: প্রথমে নিজেকেই একজন ভালো মানুষ হিসাবে দেখতে চাই, মানুষের ভালোবাসায় এতো দূর এসেছি ভবিষ্যতেও যেন তাদেরকে ভালোবেসে আমার কাজগুলো সম্মানের সাথে করতে পারি সেটাই চাই। তাছাড়া আমার শুভাকাঙ্ক্ষী যারা সবাইকে জনাতে চাই- সুমি'স কিচেন নামে একটি রেস্টুরেন্ট দেওয়ার ইচ্ছে আছে।
দেশ রূপান্তর: হাতে হাতে কি কি কাজ আছে এখন?
সুমি: সামনের মাসে সুইডেন এর আমন্ত্রণে রান্নার একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য যাচ্ছি, আয়োজনে আছে এটিএন বাংলা।
দেশ রূপান্তর: দেশের বাইরে কাজ করতে কেমন লাগে?
সুমি: বাইরে বললে ভারতের কলকাতায় বেশি কাজ করেছি। ঢাকা ও কলকাতার ভাষা বাংলা হওয়াতে মনেই হয় না অন্য কোনো দেশে কাজ করছি। কাজের পরিবেশও অনুকূল। সবসময় অনুভব করেছি এদেশের মানুষের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ। রন্ধনশিল্পে অবদানের জন্য ভারত থেকে সম্মাননাও পেয়েছি দুবার। নিজের দেশের বাইরে কাজের স্বীকৃতি পাওয়া আমাকে কাজের প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
দেশ রূপান্তর: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
সুমি: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।