সদ্য সমাপ্ত বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপসহ পাঁচজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এর ফলে নির্বাচনের জন্য তারা যে টাকা জামানত দিয়েছিলেন, তা আর ফেরত পাবেন না। যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে, তারা হলেনÑ বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপ ও বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মনসুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজ মণ্ডল ও সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সোমবার অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭০ ভোট। সেই অনুযায়ী জামানত ফেরত পেতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ন্যূনতম ১৬ হাজার ৭৩৩ ভোট পেতে হতো। কিন্তু ওই পাঁচজন প্রার্থীর কেউ সেই পরিমাণ ভোট পাননি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর লাঙল প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ২৭১ ভোট। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর বিরোধীদলীয় হুইপ এবং পরে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মনোনীত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৪০ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়েছিলেন। নির্বাচনে বিজয়ী মির্জা ফখরুল শপথ না নেওয়ায় শূন্য ঘোষিত বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হন।
জামানত হারানো অপর চার প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের রফিকুল ইসলাম হারিকেন প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫৪ ভোট। তিনি গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ) থেকে নির্বাচন করে পাঁচ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মনসুর রহমান ডাব প্রতীকে ৪৫৬ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু নির্বাচনের তিন দিন আগে (২০ জুন) সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে তিনি ট্রাক প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৬৩০ ভোট। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজ মণ্ডল আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯২০ ভোট।
বগুড়ার জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুব হোসেন শাহ ওই পাঁচ প্রার্থীর জামানত হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিধি মোতাবেক ভোট না পাওয়ায় তারা কেউই নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া জামানতের অর্থ ফেরত পাবেন না। নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে কমিশনের কাছে জামানত বাবদ ৫০ হাজার টাকা জমা রাখতে হয়।