চীনা রাষ্ট্রদূতকে প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে রাজি করান

প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বোঝানোর জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম

সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই উদ্বাস্তুদের অবশ্যই তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।

আগামী ১ থেকে ৫ জুলাই চীনে সরকারি সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পেইচিং। সেই সঙ্গে চীন সরকার ১-৩ জুলাই দালিয়ানে আয়োজিত বার্ষিক সম্মেলন নিউ চ্যাম্পিয়ন্সে প্রধানমন্ত্রীকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই সম্মেলন ‘সামার দাভোস’ হিসেবে পরিচিত। গত সংসদ নির্বাচনে নিজ দলের বিপুল বিজয়ের পর এই প্রথমবারের মতো চীনে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। তিনি প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন। সফরে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হতে পারে।

এর আগে গতকাল দুপুরে ঝ্যাং জু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। যত শিগগিরই সম্ভব বাংলাদেশ থেকে নিজেদের বাসিন্দা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরানোর ব্যাপারে চীনের সহায়তা চান মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝ্যাংকে বলেন, যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে, এমন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত ওই সময় সম্প্রতি তার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা সংক্ষিপ্তভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন। সেই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যোগাযোগব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণের ওপর জোর দেন।

জরাজীর্ণ সেতু দ্রুত মেরামতের নির্দেশ : দেশের পুরনো ও জরাজীর্ণ সেতুগুলো দ্রুত মেরামত করতে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া দেশের ক্রীড়াবিদরা শেষ বয়সে যেন আর্থিক কষ্টে না পড়েন সেজন্য তাদের জন্য একটি তহবিল গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নড়বড়ে ও পুরনো সেতুগুলো তাড়াতাড়ি মেরামতের ব্যবস্থা করেন। আসন্ন বর্ষার আগেই সেগুলো মেরামত করতে হবে। কারণ বর্ষায় সেগুলো ভেঙে পড়ার প্রবণতা বাড়বে।

গত রবিবার মৌলভীবাজারে ট্রেন দুর্ঘটনায় চারজন নিহতসহ আহত হন শতাধিক যাত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন রেল ও সড়ক উভয়কেই জরিপ করতে হবে। কোন কোন সেতু মেরামত করতে হবে তা বের করতে হবে। খুব দ্রুত কাজে নেমে পড়েন।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বরাতে তিনি বলেন, সারা দেশে আন্তঃজেলা যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে হবে। কোন কোন রাস্তা প্রশস্ত করতে হবে, তার একটি মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, অনেক খেলোয়াড় অবসর সময়ে নানা ধরনের আর্থিক সমস্যায় ভোগেন। তারা বার্ধক্যজনিত কারণে যাতে আর আর্থিক সমস্যায় না পড়েন সেজন্য খেলোয়াড়দের জন্য একটি তহবিল গঠন করতে হবে। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে একটি ফান্ড গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। খেলোয়াড়রা যেন সারা বছর প্রশিক্ষণ নিতে পারেন সেজন্যও ফান্ড গঠনের নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বরাতে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যখন টুর্নামেন্ট হবে তখনই প্র্যাকটিস হয়। কিন্তু সারা বছর যেন প্র্যাকটিস থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

খেলাধুলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আর্চারি সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেনÑ শুধু পশ্চিমা আর্চারি নয়, আমাদের এখানে তীর-ধনুক-বল্লম রয়েছে। সাঁওতালরা ব্রিটিশদেরকে তীর-ধনুক দিয়ে তাড়াতে চেয়েছিল। সেই তীর-ধুনকও যাতে মরে না যায়, বিকশিত হয়, সেজন্য তহবিল, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।