উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ায় ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিটসংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা বাস্তবায়ন আরও দুই মাস স্থগিত রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবারএ-সংক্রান্ত নির্দেশনাটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ কে এম এহসান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই নীতিমালার ওপর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ২৪ জুন পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি করেছিল, যার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নীতিমালায় বলা হয়, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্দমানে খেলাপি হওয়া ঋণ মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট নিয়ে ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ শতাংশ। এমনকি পুনঃতফসিলের আগে সুদ মওকুফ সুবিধা দেওয়া যাবে।
ওই নীতিমালায় বলা হয়, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের ঋণ নিয়মিত পরিশোধ হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ঋণ বিরূপমানে শ্রেণিকৃত হওয়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল খাতসহ অন্যান্য খাতে স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহ বজায় রাখাসহ বিরূপমানের ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে এসব সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করছেন না, তারা বিশেষ সুবিধা পাবেনÑএমন মত দেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। এ অবস্থায় ওই নীতিমালার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। হাইকোর্ট প্রথমে ২৪ জুন পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ জুন শুনানি শেষে নীতিমালার স্থগিতাদেশ আরও দুই মাস বাড়ানোর আদেশ দেয় হাইকোর্ট। পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ব্যবসা বা ট্রেডিং খাতের গম, খাদ্যদ্রব্য, ভোজ্যতেল ও রিফাইনারি, জাহাজশিল্প এবং লৌহ ও ইস্পাতশিল্পের কোনো বিশেষ নিরীক্ষা লাগবে না। বিশেষায়িত ব্যাংকের অকৃষি খাতের আমদানি-রপ্তানিতে সম্পৃক্ত শিল্প ঋণও সরাসরি পুনঃতফসিল করা যাবে। তবে এসব খাতের বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্রে পুনঃতফসিলের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্র্তৃক বিশেষ নিরীক্ষা করে এমন গ্রাহককে সুবিধা দিতে হবে যিনি প্রকৃত ব্যবসায়ী, যাদের ঋণ নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে মন্দমানে শ্রেণীকৃত হয়ে পড়েছে।