প্রবল বর্ষণে জলমগ্ন সিলেট, জনদুর্ভোগ

গত কয়েকদিনের কাঠফাটা রোদ আর অসহ্য গরমের পর সিলেটে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হয়েছে।

তবে বুধবার দুপুর থেকে সিলেটে অঝোর ধারায় ঝরেছে আষাঢ়ের বারিধারা। বেলা ২টা থেকে একঘন্টার একটানা বর্ষণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় নগরীর অনেক এলাকায়। অনেক জায়গায় সড়কে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। সড়ক-নালা উপচে বাসা বাড়ি, দোকানে পানি ঢুকে দুর্ভোগে পড়েন মানুষ। অনেকের মূল্যবান জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে। প্রবল বর্ষণ আর জলাবদ্ধতার কারণে ছুটির পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়েন বিপাকে। অনেকে ভিজে একাকার হয়ে বাসায় ফিরেছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সাঈদ আহমদ জানান, বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। 

বুধবার বিকেলে নগর ঘুরে দেখা যায়, নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাঠানটুলা থেকে মদিনা মার্কেট পর্যন্ত সড়কে স্থানে স্থানে কোমরপর্যন্ত পানি। এ কারণে সড়কে চলাচলকারী হালকা যানবাহনের অনেকগুলোর ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়েছে। দোকান-বাসা বাড়িতেও পানি ঢুকেছে।

এছাড়া নগরীর জিন্দাবাজার সংলগ্ন পুরানলেন, ছড়ারপার, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, কলাপাড়া, ভাতালিয়া, শিবগঞ্জ, মিরাবাজারসহ অনেক এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

পাঠানটুলা লন্ডনি রোড এলাকার বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা অনেক পুরনো সমস্যা। গত ২০ বছরেও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করতে পারেননি কোন মেয়র। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেন-কালভার্ট সংস্কার করা হচ্ছে। নগরীর খালগুলো উদ্ধার করে পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হয়েছে। এরপরও কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে। এগুলো দ্রুত সমাধান হবে।