ডিআইজি মিজানকে গ্রেপ্তারে আবেদন করবে দুদক

বিতর্কিত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারে আদালতে আবেদন করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে ডিআইজি মিজানকে সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। মিজান-বাছির ঘুষ লেনদেন তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে দুদক। ওই দলের এক সদস্য বলেন, ‘গত সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (সজেকা) দুদক যে মামলা দায়ের করেছে সেটি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা। দুদকের বিধি অনুসারে এই মামলায় কোনো আসামি গ্রেপ্তারের জন্য আদালতের পরোয়ানা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দুদক আদালতের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাইবে। এর আগে তার পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ সব তথ্য উল্লেখ করে ইমিগ্রেশন পুলিশর কাছে চিঠি দিয়ে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।’

ডিআইজি মিজানকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, সুনির্দিষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া সরকারি উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। আর এর আগে যদি তিনি আত্মসমর্পণ করেন তাহলে ভিন্ন কথা। যদি না করেন তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘তিনি দেশে নেইÑ এ রকম কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তার দেশেই থাকার কথা।’ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দুদক মামলা করার পর থেকেই ডিআইজি মিজান বাসায় থাকছেন না। তিনি রাজধানীর মিরপুরে তার এক বোনের বাসায় আছেন।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পুলিশের উচ্চপর্যায়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ গত বছর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ থেকে বাঁচতে অনুসন্ধান কর্মকর্তা এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার দাবি করেন তিনি। পরে এ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় অপর পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদকে। এরপর গত রবিবার ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক; মামলায় তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনা রত্না, ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে  উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান নোমানকেও আসামি করা হয়েছে। পরদিন ডিআইজি মিজানের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। পরে গত মঙ্গলবার রাতে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশে সম্মতি দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। গতকাল ডিআইজি মিজানকে সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা শাখার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘মিজানুর রহমান (বিপি-৬৬৯১০০০০২৫) উপপুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকায় সংযুক্তকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা সমীচীন মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় এতদ্বারা চাকুরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময় তিনি পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত থাকবেন এবং প্রচলিত বিধি মোতাবেক খোরাকিভাতা প্রাপ্য হবেন।’

মাদক নির্মূল করতে সরকার বদ্ধপরিকর : ‘মাদক নির্মূল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। মূলত মাদকের সাপ্লাই বন্ধ, চাহিদা হ্রাস ও সচেতনতা বৃদ্ধি এই তিন স্তরকে সামনে রেখে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেছেন, ‘সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে ডিএনসি গত বছর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭ হাজার ৮৯৮টি সভার আয়োজন করেছে। ২৮ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি করা হয়েছে। ৩০৭টি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সরকারি কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্রকে ১২৪ বেডে উন্নীত করা হয়েছে।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী’ আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এ সভার আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে মাদকের চোরাচালান বন্ধ করা হবে। ইতিমধ্যে টেকনাফে মাদক কারবারিরা আত্মসমর্পণ করেছে। অন্যরাও যদি স্বেচ্ছায় সুপথে ফিরে না আসে তাহলে তাদের অবস্থা কী হবে তা সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। কিছুতেই মাদকের ছোবলে আমাদের যুব সমাজকে হারিয়ে যেতে দেব না।’

ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) মো. জামাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু,  স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্য খলিলুর হক খান, হাবিবুর রহমান, শামসুল হক দুদু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান, মানসের প্রতিষ্ঠাতা ডা. অরূপ রতন চৌধুরী প্রমুখ।